বৃহস্পতিবার, ০৫ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ভিয়েনায় ইফতার মাহফিলে এরদোগান পুত্র বিলাল এরদোগান ও এ কে পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফের সিরাকায়া অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার মেয়র ডক্টর মিকায়েল লুডভিগ কর্তৃক মুসলিম নেতৃবৃন্দের সম্মানে ইফতার অনুষ্ঠান সংকট উত্তরণে ট্যাক্স ও বিনিয়োগ বাড়াতে হবে: অর্থমন্ত্রী গণভোটের ফলাফল ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ কমিয়ে সংশোধনি প্রকাশ মানবতাবিরোধী অপরাধ: খালাস পেলেন আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাগেরহাটের খান আকরাম ভিয়েনায় ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটির উদ্দ্যোগে আন্তঃধর্মীয় রাজকীয় ইফতারে- অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভান দেয়ার বেল্লে এ বছরের ফিতরার হার নির্ধারণ, জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২৮০৫ টাকা সর্বনিম্ন ১১০ টাকা বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম কোন ব্যবসায়ীকে করা হলো গভর্নর রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিমানবন্দরে প্রবাসীদের সুরক্ষাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার- আফরোজা খানম রিতা

জান্তাশাসিত মিয়ানমারে ৫ বছর পর জাতীয় নির্বাচন শুরু

ডেক্স রিপোর্ট
Update : রবিবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের প্রতিবেশী দেশ মিয়ানমারে অবশেষে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ২০২১ সালে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা দখলের প্রায় পাঁচ বছর পর এই প্রথম দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

মিয়ানমারের নির্বাচন কমিশনের বরাতে বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, আজ ২৮ ডিসেম্বর থেকে আগামী ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন ধাপে ভোটগ্রহণ চলবে। রোববার প্রথম ধাপে রাজধানী নেইপিদো, বাণিজ্যিক রাজধানী ও বৃহত্তম শহর ইয়াঙ্গুন, দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মান্দালয়সহ জান্তানিয়ন্ত্রিত কয়েকটি শহর ও গ্রামাঞ্চলে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় সময় সকাল ৬টা (বাংলাদেশ সময় সকাল ৬টা ৩০ মিনিট) থেকে ভোটগ্রহণ কার্যক্রম চলছে। জাতীয় পার্লামেন্টের পাশাপাশি প্রাদেশিক আইনসভাগুলোর নির্বাচনও একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হচ্ছে।তবে বিদ্রোহী গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন অঞ্চল ও প্রদেশে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

মিয়ানমারে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০২০ সালের নভেম্বরে। ওই নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসি (এনএলডি)। কিন্তু নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে এনএলডি সরকারকে উৎখাত করে সেনাবাহিনী। এই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেন সেনাপ্রধান জেনারেল মিন অং হ্লেইং।

অভ্যুত্থানের পরপরই অং সান সু চিসহ এনএলডির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, সংসদ সদস্য, মন্ত্রী এবং হাজার হাজার নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা এখনও কারাগারে রয়েছেন। সু চির বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আনা হয়েছে, যেগুলো প্রমাণিত হলে তার সর্বোচ্চ ১৫০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২৩ সালে জান্তাশাসিত নির্বাচন কমিশন এনএলডিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করে।এর ফলে এবারের নির্বাচনে এনএলডি অংশ নিচ্ছে না। পাশাপাশি ২০২০ সালের নির্বাচনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ রাজনৈতিক দলও এবারের নির্বাচন বর্জন করেছে। বর্তমান নির্বাচনী মাঠে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে রয়েছে সামরিক বাহিনীর সমর্থনপুষ্ট ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। ভোটগ্রহণ শেষে এই দলই সরকার গঠন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এদিকে, জান্তা ক্ষমতা গ্রহণের ছয় মাসের মধ্যেই দেশজুড়ে বিভিন্ন জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর উত্থান ঘটে। ২০২৩ সাল থেকে মিয়ানমারের বিভিন্ন প্রদেশে এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে সেনাবাহিনীর সংঘর্ষ শুরু হয়। বহু এলাকায় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সামরিক বাহিনীকে হটিয়ে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের সীমান্তসংলগ্ন রাখাইনসহ মিয়ানমারের প্রায় ৩৩ শতাংশ এলাকা আরাকান আর্মি, কারেন লিবারেশন ফোর্সসহ একাধিক জান্তাবিরোধী সশস্ত্র গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

এএফপি জানায়, সশস্ত্র গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলসহ অন্তত পাঁচটি প্রদেশে এবারের নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হচ্ছে না।

এ প্রসঙ্গে অং সান সু চির ছেলে কিম অ্যারিস, যিনি বর্তমানে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন, এএফপিকে বলেন, “এটি একটি অর্থহীন নির্বাচন। আমার মা এবং মিয়ানমারের অধিকাংশ জনগণ এমনটাই মনে করেন।”


More News Of This Category

ফেজবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর