মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “সওয়াব”এর উদ্যোগে পাঁচ শতাধিক রমাদান ফুড প্যাকেট বিতরণ ড. মুহাম্মদ ইউনুস: কঠিন সময়ে দেশের নেতৃত্ব ও জনমানুষের আস্থা তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ আজ, সংসদ কার্যক্রম শুরু গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুরে তিন বাহিনী প্রধানের মতবিনিময় বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন আমরা টাকা পাচারকারীদের ঘুম হারাম করে দেব আওয়ামী লীগ–বিএনপি দ্বন্দ্বের বাইরে নতুন সমীকরণ: ক্ষমতার রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর উত্থান ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকবে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক নির্বাচন ঘিরে মোটরসাইকেল ও যানচলাচলে বিধি-নিষেধ

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ আজ, সংসদ কার্যক্রম শুরু

স্টাফ রিপোর্টার
Update : মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন সরকার গঠন এবং জাতীয় সংসদ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠন হচ্ছে। আজ সকাল সংসদ ভবনে নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন এবং বিকেলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং পরে নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। নতুন সরকার হবে তুলনামূলক ছোট আকারের; এতে নবীন ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয় করা হবে এবং বিএনপি জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন।

প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এছাড়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসন, জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসন এবং স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি। একই দিনে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরে “হ্যাঁ” ভোট পেয়েছে, যার consequence সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্যরা আজ শপথ নেবেন।

শপথ অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন না, তবে বিকেলের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে থাকবেন দক্ষিণ এশিয়া ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। সকাল ১০টায় নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনে এবং মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে হওয়ার ঐতিহ্য থাকলেও এবার মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়া হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।

সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, অতিথি গ্যালারি, ভিভিআইপি জোন ও গণমাধ্যম কর্নার তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সংসদ ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, এমপি ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার পরিচালিত হয়েছে।

শপথ অনুষ্ঠানের কারণে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখানোর জন্য সংসদ ভবনের বাইরে বড় স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় সংসদের শপথ কক্ষে একসাথে ১০০ জন এমপি শপথ নেবেন এবং তা তিন দফায় সম্পন্ন হবে। শপথ শেষে সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন এবং পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হবে। পরে বিএনপি সংসদীয় দল তারেক রহমানকে সংসদের নেতা নির্বাচিত করবে এবং জামায়াতে ইসলামী জোটের দল ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত করবে।

বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে, সংসদ ভবনের খোলা জায়গায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শপথের পরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করবে।

গতকাল নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়, যেখানে শপথ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে এবং দলের অন্দরের আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রাখা নেতাদেরও এতে রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ঢাকায় শপথ অনুষ্ঠানের কারণে নির্দিষ্ট রাস্তা এবং এলাকা দিয়ে যানবাহনের চলাচলে বিশেষ সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং ডিএমপি বিকল্প পথ ও ডাইভারশন নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ৩৭টি সরকারি আবাসিক বাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কোন বাড়িতে থাকবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি; প্রধান উপদেষ্টার বসবাসরত ‘যমুনা’ বাড়িটিকে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার বাসস্থানের সিদ্ধান্ত নেবেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে আজ শনিবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে; তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে এবং নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পথে আছেন।


More News Of This Category

ফেজবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর