বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | পাতা: 2 / 4
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | পাতা: 3 / 4
বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | পাতা: 4 / 4
মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
মানিকগঞ্জ পৌরসভার মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদ। তরুণ নেতৃত্বের মাধ্যমে মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত, পরিচ্ছন্ন ও নাগরিকবান্ধব শহর হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তিনি নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া শাখার সাবেক সদস্য সচিব প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদ বর্তমানে জর্জিয়া বিএনপির সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রবাসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ ও বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।
আসন্ন পৌর নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে তিনি শতভাগ আশাবাদী। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী নির্ধারণ দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
‘মানিকগঞ্জ পৌরসভায় প্রয়োজন তরুণ নেতৃত্ব’
প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদের মতে, বর্তমান সময়ে একটি পৌরসভাকে এগিয়ে নিতে এমন নেতৃত্ব প্রয়োজন, যারা শুধু দাপ্তরিক কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ না থেকে নিয়মিত মাঠে গিয়ে মানুষের সমস্যা শুনবেন এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেবেন।
তিনি মনে করেন, মানিকগঞ্জ পৌরসভায় তরুণ ও কর্মচঞ্চল নেতৃত্ব এলে নাগরিক সেবার মান আরও উন্নত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুযোগ তৈরি হবে।
তার পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো—পৌর এলাকার রাস্তা ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিচ্ছন্নতা, নাগরিক সেবা সহজীকরণ এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের দিকে গুরুত্ব দেওয়া।
অসহায় মানুষের পাশে থাকার দাবি
প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদের রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানান, বিগত সময়ে তিনি মানিকগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেছেন। বিশেষ করে শীত মৌসুমে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণসহ বিভিন্ন ধরনের সাহায্য-সহায়তা কার্যক্রমে তিনি সহযোগিতা করেছেন বলে তারা জানান।
স্থানীয় মানুষের বিভিন্ন প্রয়োজনেও ব্যক্তিগত উদ্যোগে সহযোগিতা করার পাশাপাশি সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার কথা তুলে ধরেছেন তার সমর্থকরা।
প্রবাসে অবস্থান করলেও নিজ এলাকার মানুষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা এবং এলাকার বিভিন্ন সমস্যা সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার বিষয়টিকেও তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে দেখছেন সমর্থকরা।
প্রকৌশল জ্ঞান কাজে লাগিয়ে নগর উন্নয়নের প্রত্যাশা
প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদ মনে করেন, একটি আধুনিক পৌরসভা গড়ে তুলতে শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্ব যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন পরিকল্পনা, দক্ষতা ও বাস্তবায়নের সক্ষমতা।
তার বক্তব্য অনুযায়ী, নগর পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন ও নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রকৌশলভিত্তিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দেওয়া হলে মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে আরও বাসযোগ্য ও আধুনিক করে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, উন্নয়ন হতে হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে। বর্তমান সমস্যার সমাধানের পাশাপাশি আগামী দিনের নাগরিক চাহিদা বিবেচনায় রেখে পৌরসভার উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের ওপর গুরুত্ব
মাহবুব আহমেদের রাজনৈতিক ভাবনায় জনগণের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তার মতে, পৌরবাসীর প্রকৃত সমস্যা জানতে হলে ওয়ার্ডভিত্তিক মানুষের কাছে যেতে হবে। নাগরিকদের অভিযোগ ও প্রত্যাশা শুনে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করে কাজ করতে হবে।
তিনি আরও মনে করেন, পৌরসভার সেবাকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার জন্য আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
দলীয় মনোনয়নের বিষয়ে আশাবাদী
মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদ দলীয় মনোনয়নের ব্যাপারে আশাবাদ প্রকাশ করেছেন। তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, প্রবাসে দলীয় দায়িত্ব পালন এবং মানিকগঞ্জের মানুষের জন্য বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণকে তিনি নিজের রাজনৈতিক পথচলার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তবে শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার পর নির্বাচনী মাঠে তার পরিকল্পনা, উন্নয়ন ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা আরও বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার প্রত্যাশা রয়েছে।
মানিকগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত ও নাগরিকবান্ধব শহরে রূপান্তরের প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রকৌশলী মাহবুব আহমেদ এখন দলীয় সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। তরুণ নেতৃত্বের এই প্রত্যাশা শেষ পর্যন্ত পৌরবাসীর ভোটের মাঠে কতটা সমর্থন পায়, সেটিই হবে পরবর্তী সময়ে দেখার বিষয়।
গত সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে গড়ে ওঠা আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংঘাতের পটভূমি নিয়ে নির্মিত হয়েছে বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র ‘ইরান: দ্য মেকিং অব আ ওয়ার’। তৎকালীন ভূরাজনীতি কীভাবে আজকের প্রত্যক্ষ সংঘাতের জন্ম দিয়েছে, প্রামাণ্যচিত্রটিতে তা বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
প্রতিবেদনে জানানো হয়, ১৯৫৩ সালে সিআইএ-র নেতৃত্বে পরিচালিত এক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ইরানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ মোসাদ্দেককে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। প্রামাণ্যচিত্রটি সেই ঐতিহাসিক ঘটনা থেকে শুরু হয়ে দেশটির পরবর্তী নানা রাজনৈতিক রূপান্তর পর্যবেক্ষণ করে।
এতে দেখানো হয়, কীভাবে মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনামলে পশ্চিমা শক্তির মিত্র থাকা রাজতন্ত্র একপর্যায়ে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির নেতৃত্বে ১৯৭৯ সালের ঐতিহাসিক ‘ইসলামি বিপ্লব’-এ পরিণত হয়।
ইসলামি বিপ্লব ও তেহরানে মার্কিন জিম্মি সংকটের পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সম্পর্কের পুরোপুরি অবসান ঘটে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ইসরায়েলের সঙ্গেও তেহরানের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র রূপ নেয়।
পরবর্তী দশকগুলোতে প্রক্সি যুদ্ধ বা পরোক্ষ লড়াই, গোপন সামরিক অভিযান এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক বিরোধই দেশটির এই দীর্ঘ সংঘাতময় অবস্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে।
‘ইরান: দ্য মেকিং অব আ ওয়ার’ প্রামাণ্যচিত্রে মূল অনুসন্ধানের বিষয় হিসেবে এসেছে—কীভাবে এই দীর্ঘমেয়াদি আঞ্চলিক উত্তেজনা একসময় সরাসরি সামরিক মুখোমুখি অবস্থানে রূপ নিল এবং বিশ্ব অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এর কতটা বিপজ্জনক ও গুরুতর প্রভাব তৈরি হলো।
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর):
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে এক বসতবাড়িতে হামলা, মারধর এবং লুটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় একই পরিবারের নারীসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২০ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের জয়নাতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ মান্নান (৫১) বাদী হয়ে ওইদিনই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— একই এলাকার মোছাঃ আজিরন (৪০), সাহাবুদ্দিন (৬০), মোছাঃ কদবানু (৪৩), মার্জিয়া খাতুন (১৯), মোছাঃ ময়জান (৫৫) এবং হোসেন আলী (৫০)। তারা সবাই জয়নাতলী গ্রামের বাসিন্দা।
লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও মারধর
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বিবাদীদের সাথে বাদী মোঃ মান্নানের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২০ জুন দুপুর আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকায় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বেআইনিভাবে মোঃ মান্নানের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে।
সেখানে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে বাদীর স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৪৫) ও ছেলে আবু নাঈমকে (২৬) এলোপাতাড়ি মারধর করে। লাঠির আঘাতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফুলা জখম হয়।
স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা লুট
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ১নং বিবাদী মাজেদা আক্তারের গলা থেকে আনুমানিক ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় গৃহকর্তা মোঃ মান্নান বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং ৩নং বিবাদী তার শার্টের পকেট থেকে নগদ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেয়।
আহতদের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ভবিষ্যতে খুন-জখম করার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আইনি ব্যবস্থা
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করে এবং ২০ জুন বিকেলে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
পঞ্চাশ বছর বয়সে পৌঁছে Donald Trump যেন নিজেই নিজের তৈরি এক মঞ্চে দাঁড়িয়ে আছেন—যেখানে তিনি একই সঙ্গে নায়ক, বর্ণনাকারী, এবং কখনো কখনো নিজের গল্পের সবচেয়ে অবিশ্বাস্য চরিত্র। তাঁর জীবনের এই অধ্যায়টি কেবল একজন ব্যবসায়ীর গল্প নয়; এটি এমন এক মানুষের কাহিনি, যিনি বাস্তবতা ও নিজের কল্পিত সাফল্যের মাঝখানে এক অদ্ভুত সেতু তৈরি করে চলেছেন।
১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে ট্রাম্পের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য বাইরে থেকে যতটা ঝলমলে দেখাত, ভেতরে ততটাই ছিল নড়বড়ে। আটলান্টিক সিটির ক্যাসিনোগুলো—যেগুলো একসময় তাঁর সাফল্যের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হতো—ধীরে ধীরে ঋণের বোঝায় ভেঙে পড়ছিল। বিশাল ঋণ, ব্যর্থ প্রকল্প, আর অর্থনৈতিক চাপে তাঁর অবস্থান দুর্বল হয়ে উঠছিল। কিন্তু এই বাস্তবতা কখনোই তাঁর প্রকাশ্য বক্তব্যে প্রতিফলিত হয়নি।
বরং, তিনি এমন এক কৌশল বেছে নিলেন, যা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে দেয়—তিনি নিজের ব্যর্থতাকেও সাফল্যের গল্প হিসেবে উপস্থাপন করতে শুরু করেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর উপস্থিতি, নিজের নামকে ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা, এবং আত্মবিশ্বাসী—অনেকের মতে অতিরঞ্জিত—বক্তব্যের মাধ্যমে তিনি এমন এক চিত্র তৈরি করেন, যেখানে ব্যর্থতা যেন অস্তিত্বই রাখে না।
এই সময়টিতে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় শক্তি হয়ে ওঠে তাঁর নিজের প্রতি অদম্য বিশ্বাস—বা সমালোচকদের ভাষায়, বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন এক আত্মবিশ্বাস। তিনি এমনভাবে কথা বলতেন, যেন তিনি সবকিছু নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন, যদিও বাস্তব পরিস্থিতি ছিল অনেক বেশি জটিল।
২০০০-এর দশকে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে ট্রাম্প বুঝতে পারেন, কেবল ব্যবসা দিয়ে নয়—জনমত নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমেও ক্ষমতা অর্জন করা যায়। এই উপলব্ধিই তাঁকে নিয়ে আসে টেলিভিশনের পর্দায়। The Apprentice–এ তাঁর উপস্থিতি ছিল একটি মোড় ঘোরানো ঘটনা।
এই শো-তে তিনি নিজেকে এমন এক সফল, দৃঢ়চেতা ব্যবসায়ী হিসেবে তুলে ধরেন, যিনি মুহূর্তের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং অন্যদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারেন। “You’re fired”—এই একটি বাক্য তাঁকে কোটি মানুষের কাছে পরিচিত করে তোলে। কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল—এটি ছিল একটি নির্মিত বাস্তবতা, একটি সাজানো মঞ্চ, যেখানে ট্রাম্প ছিলেন কেন্দ্রীয় চরিত্র।
অনেক সমালোচকের মতে, এই শো-ই ট্রাম্পকে এমন এক আত্ম-ছবিতে বিশ্বাস করতে সাহায্য করে, যা বাস্তবের চেয়ে অনেক বেশি বড়, অনেক বেশি শক্তিশালী। তিনি যেন ধীরে ধীরে নিজের তৈরি চরিত্রটিকেই বাস্তব বলে মেনে নিতে শুরু করেন।
এই সময় থেকেই তাঁর বক্তব্যে একটি প্রবণতা স্পষ্ট হতে থাকে—তিনি প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজেকে “সেরা”, “সবচেয়ে সফল”, “সবচেয়ে জ্ঞানী” হিসেবে উপস্থাপন করেন। অর্থনীতি থেকে রাজনীতি, মিডিয়া থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক—সব বিষয়ে তাঁর আত্মবিশ্বাস ছিল সীমাহীন। কিন্তু সেই আত্মবিশ্বাসের পেছনে কতটা বাস্তব জ্ঞান ছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল সবসময়ই।
২০১৫ সালে তিনি যখন ঘোষণা দেন যে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নেবেন, তখন অনেকেই এটিকে আরেকটি প্রচারণা কৌশল হিসেবে দেখেছিলেন। কারণ তাঁর বক্তব্য প্রায়ই ছিল অসংলগ্ন, কখনো কখনো তথ্যভিত্তিক নয়, এবং অনেক ক্ষেত্রে বিতর্ক উসকে দেওয়ার মতো।
কিন্তু এখানেই ট্রাম্পের বিশেষত্ব—তিনি বুঝেছিলেন, আধুনিক রাজনীতিতে মনোযোগই সবচেয়ে বড় শক্তি। এবং তিনি সেই মনোযোগ কাড়তে সক্ষম হন—ভালো হোক বা খারাপ, তিনি সবসময় আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন।
২০১৬ সালের নির্বাচন ছিল এক নাটকীয় অধ্যায়। Hillary Clinton–এর মতো অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদের বিরুদ্ধে তাঁর জয় প্রমাণ করে, জনমত গঠনের ক্ষেত্রে প্রচলিত নিয়ম সবসময় কার্যকর হয় না। তিনি এমন এক ভোটারগোষ্ঠীকে আকৃষ্ট করেন, যারা নিজেদের দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত মনে করছিল।
প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর সময়কাল শুরু থেকেই ছিল বিতর্কে ভরা। তাঁর সিদ্ধান্তগুলো প্রায়ই ছিল আকস্মিক, কখনো কখনো পরামর্শ উপেক্ষা করে নেওয়া। তিনি বিশেষজ্ঞদের মতামতকে প্রায়ই চ্যালেঞ্জ করতেন, এবং অনেক ক্ষেত্রে নিজেকে তাঁদের চেয়েও বেশি জ্ঞানী হিসেবে উপস্থাপন করতেন।
এই আচরণ তাঁর সমর্থকদের কাছে ছিল সাহসিকতা—একজন নেতা, যিনি “সিস্টেম”-এর বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পারেন। কিন্তু সমালোচকদের কাছে এটি ছিল এক ধরনের অজ্ঞতা, যেখানে জটিল বিষয়গুলোকে সরলীকরণ করে দেখা হয়।
২০২০ সালে COVID-19 মহামারি এই দ্বৈত চিত্রকে আরও তীব্র করে তোলে। একদিকে তিনি পরিস্থিতিকে হালকা করে দেখানোর চেষ্টা করেন, অন্যদিকে নিজেকে সংকট মোকাবিলায় সফল নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেন। তাঁর বক্তব্য ও বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে এই ফাঁক অনেকের কাছে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নির্বাচনে Joe Biden–এর কাছে পরাজয়ের পরও ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া ছিল পূর্বের ধারাবাহিকতারই অংশ। তিনি ফলাফল মেনে নিতে অনীহা প্রকাশ করেন এবং নিজের বর্ণনাকেই সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালিয়ে যান।
পঞ্চাশের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত ট্রাম্পের গল্প তাই এক ধরনের ধারাবাহিকতা বহন করে—একজন মানুষ, যিনি নিজের তৈরি বাস্তবতায় অটল বিশ্বাস রাখেন, এবং সেই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই নিজের পরিচয় নির্মাণ করেন। তাঁর সমালোচকরা তাঁকে প্রায়ই বাস্তবতা-বিচ্ছিন্ন, আত্মমুগ্ধ এবং অদক্ষ হিসেবে দেখেন; অন্যদিকে তাঁর সমর্থকরা তাঁকে দেখেন সাহসী, ভিন্নধর্মী এবং প্রচলিত ব্যবস্থার বাইরে দাঁড়ানো একজন নেতা হিসেবে।
এই বৈপরীত্যই ট্রাম্পকে একটি জটিল ও আকর্ষণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে। তিনি একাধারে সফল এবং বিতর্কিত, প্রভাবশালী এবং বিভাজনমূলক—একজন মানুষ, যাঁকে বোঝা সহজ নয়, কিন্তু উপেক্ষা করাও অসম্ভব।
এই গল্প এখানেই শেষ নয়। বরং এখান থেকেই শুরু হয় আরও নাটকীয় এক অধ্যায়—যেখানে ক্ষমতা হারানোর পরও প্রভাব ধরে রাখার লড়াই, এবং নিজের নির্মিত বাস্তবতাকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
চলবে…
গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ ও গণসমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস। দলটি আগামী ১০ এপ্রিল দেশজুড়ে জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে এবং ২৪ এপ্রিল ঢাকার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গণসমাবেশ আয়োজন করবে।
শনিবার রাজধানীর পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের মাসিক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে দলের আমির মাওলানা মামুনুল হক নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে বিক্ষোভ ও গণসমাবেশ সফল করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা বহু অধ্যাদেশ এখন বাতিল ও সংশোধন করা হচ্ছে, অথচ তখন এসবের বিরোধিতা করা হয়নি। বরং কিছু ক্ষেত্রে এসব অধ্যাদেশকে সমর্থন জানানো হয়েছিল এবং কিছু তাদের দাবির প্রেক্ষিতেই জারি হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ, এ ধরনের পদক্ষেপের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গণভোটের রায়কে উপেক্ষা করছে, যা একটি গুরুতর সংকটের ইঙ্গিত দেয়।
দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমেদের সঞ্চালনায় বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন সিনিয়র নায়েবে আমীর মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, নায়েবে আমীর মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মুফতি সাঈদ নূর, মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মাওলানা আব্দুল আজীজ, মুফতি শরাফত হোসাইন, মাওলানা তোফাজ্জল হোসাইন মিয়াজী এবং মাওলানা শরীফ সাইদুর রহমান।
বৈঠকে দেশে তেল সংকট এবং শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকার ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার নিন্দা জানিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশ্ব নেতাদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
ক্ষমতাসীন বিএনপির জোটসঙ্গী গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছেড়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি। তবে দলটির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে থাকছেন তিনি। জোনায়েদ সাকির স্থলে গণসংহতির ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়কারী করা হয়েছে দলের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ও প্রবীণ কৃষক নেতা দেওয়ান আবদুর রশিদকে (নীলু)।
আজ শনিবার রাজধানীর হাতিরপুলে গণসংহতি আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এই সিদ্ধান্তের কথা জানান গণসংহতি আন্দোলনের নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান। দলীয় প্রধান ও সরকারের মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একই সঙ্গে পালন না করার নীতিগত জায়গা থেকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে জোনায়েদ সাকিও কথা বলেন। প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেও গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য তাসলিমা আখতার, হাসান মারুফ, মনির উদ্দীন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য বাচ্চু ভুইয়া, দীপক কুমার রায়, তরিকুল সুজন, জাহিদ সুজন, বেনু আক্তার, তাহসিন মাহমুদ, আবু রায়হান খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোটের প্রার্থী হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নির্বাচনে জয়লাভ করেন জোনায়েদ সাকি। পরে বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায়ও জায়গা পান এই নেতা।
প্রচণ্ড রোদ উপেক্ষা করে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন মো. রাজীব। প্রায় তিন ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে মাত্র ২০০ টাকার তেল পেলেন মোটরসাইকেলের এই চালক। শুধু রাইড শেয়ারচালক রাজীব নন, রাজধানীতে তেলের জন্য দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা অনেকের গল্পই আরও কষ্টের, আরও কঠিন।
আজ শনিবার রাজধানীর রাজারবাগ, আরামবাগ, মতিঝিল, দৈনিক বাংলা, মৎস্য ভবন, পরিবাগের ৭টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখেছেন এই প্রতিবেদক। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য মোটরসাইকেল এবং প্রাইভেট কারের দীর্ঘ লাইন। কোথাও কোথাও এই লাইন এক-দেড় কিলোমিটার ছাড়িয়ে গেছে।
” হিটলার কে নিয়ে দেয়া বক্তব্যের কারণে অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার নির্দেশ” শীর্ষক শিরোনামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেজবুকে ছড়িয়ে পড়া সংবাদ টি পুরোপুরি ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা বলে দাবী করে নিজ ফেজবুকে পোস্ট করেন জনপ্রিয় ইসলামিক আলোচক মিজানুর রহমান আজহারী।
তার পোস্ট টি হুবুহু তুলে ধরা হলো
” অস্ট্রেলিয়ার মুসলিম কমিউনিটির আমন্ত্রণে গত ৫ দিন ধরে আমি অস্ট্রেলিয়াতে অবস্থান করছি। আমার সফর নিয়ে যে সংবাদটি ছড়িয়েছে, তা বিদেশি একটি প্রতিবেদনের ভুল ও বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা। ভিসা বাতিলের কারণ হিসেবে সাম্প্রতিক কোনো বক্তব্যকে দায়ী করা সম্পূর্ণ অসত্য—কারণ এখনো পর্যন্ত আমি অস্ট্রেলিয়াতে কোনো বক্তব্যই দিইনি। প্রিয় সাংবাদিক বন্ধুদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজেই যাচাইযোগ্য।
বিভিন্ন দেশে বক্তাদের সফর ঘিরে চাপ বা প্রভাব থাকা অস্বাভাবিক নয়; আমার ক্ষেত্রেও তেমন কিছু ঘটেছে। কিছু নির্দিষ্ট স্বার্থান্বেষী মহল ও নাস্তিক্যবাদী পক্ষ পরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে— পুরনো, বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে প্রেক্ষাপটহীনভাবে তুলে এনে প্রসাশনিক সিদ্ধান্তে প্রভাব বিস্তার করেছে। একই ভিডিওর সূত্র ধরে কয়েক বছর আগে যেমন যুক্তরাজ্যেও বাধা সৃষ্টি করা হয়েছিল।
অথচ আমি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি (Communal Harmony) এবং শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান (Religious Coexistence)-এ বিশ্বাসী। আমার বহু আলোচনাতেও যা স্পষ্ট প্রতীয়মান।” 
রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের আজ শনিবার (১৪ মার্চ) আবার সিটিস্ক্যান করা হবে।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদার।
তিনি বলেন, মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ নয়, ইনফেকশন হয়েছে। অস্ত্রোপচার সফল, বিদেশে নেয়ার বিষয়টি শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করবে। আজ আবারও সিটিস্ক্যান করা হবে।
এরআগে, এভারকেয়ার হাসপাতালে মির্জা আব্বাসের দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, তার অস্ত্রোপচার সফল হয়েছে এবং বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
এসময় তিনি মির্জা আব্বাসের শয্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন এবং সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি সিঙ্গাপুরে তার চিকিৎসার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধে একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে দেশের অর্থনীতি। জ্বালানি খাতে ধাক্কার আশঙ্কা, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহন, প্রবাসী শ্রমবাজার, বেকারত্ব বৃদ্ধি, ডলারের দাম বৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতি ও উৎপাদন খরচ বাড়ার আশঙ্কাসহ নানা চ্যালেঞ্জে রয়েছে দেশের অর্থনীতি। ফলে বাজার ও সরবরাহব্যবস্থায় বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই যুদ্ধ থেকে তৈরি হওয়া সংকট দেশের অর্থনীতিতে ধারাবাহিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারে।এর মধ্যে আছে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, বাণিজ্য প্রবাহে বিঘ্ন, রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতার সক্ষমতা কমে যাওয়া, প্রবাসী শ্রমবাজার ও রেমিট্যান্স প্রবাহে অস্থিরতা, মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি এবং রিজার্ভের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি হওয়া। উৎপাদন খরচ অতিরিক্ত বেড়ে গেলে অনেক ছোট ও মাঝারি শিল্প কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া দেশের অর্থনীতি মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও অনেকটা নির্ভরশীল।
যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)।তারা জানায়, চলমান সংঘাত বৈশ্বিক জ্বালানির বাজার ও সামুদ্রিক বাণিজ্যে বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। মধ্যপ্রাচ্যে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি সরবরাহের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সেখানে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের মূল্য প্রতি ব্যারেল মূল্য ১০০ মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। ইতোমধ্যে এ সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পথ এবং আর্থিক ব্যবস্থায় অস্থিরতা দেখা হচ্ছে।ঢাকা চেম্বার মনে করে, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্য দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ অবস্থানে থাকলে তা বাংলাদেশের বহিঃখাতের ওপর বেশ চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বৈশ্বিক বাজারে তেলের দাম প্রতি ব্যারেল ১০ মার্কিন ডলার বৃদ্ধি পেলে বাংলাদেশের মাসিক আমদানি ব্যয় প্রায় ৭০ থেকে ৮০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা বৃদ্ধি পাবে এবং বাণিজ্য ঘাটতি সম্প্রসারিত হওয়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া, হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যবস্থাতেও প্রভাব ফেলছে। এই রুটে দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় কোনো বিঘ্ন দেখা দিলে বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে ফ্রেইট চার্জ, বিমা প্রিমিয়াম এবং পণ্য সরবরাহের সময়সীমা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।বাংলাদেশের রপ্তানিমুখী শিল্পখাত, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত, এই পরিস্থিতিতে উচ্চ লজিস্টিক ব্যয়, সাপ্লাই চেইন বিঘ্ন এবং সমুদ্রপথে পরিবহনে বাড়তি ঝুঁকির সম্মুখীন। বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ড. মো. আইনুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের ক্ষেত্রে একটি সংকটের প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। যদি জ্বালানি সংকট তৈরি হয়, তবে উৎপাদনের প্রতিটি পর্যায়ে খরচ বা ‘প্রোডাকশন কস্ট’ বেড়ে যাবে। উৎপাদন খরচ বাড়লে স্বাভাবিকভাবেই পণ্যের দাম বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে। আইএমএফ ইতিমধ্যে পূর্বাভাস দিয়েছে যে সারা বিশ্বে মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির মাত্রা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জ্বালানির অভাবে পরিবহন খরচ বৃদ্ধি পাবে, যা সরাসরি দেশের রপ্তানি বাণিজ্যকে সমস্যার মুখে ফেলবে। সরবরাহ ব্যবস্থা বা সাপ্লাই চেইন বিঘ্নিত হওয়ার ফলে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি একটি বড় ধরনের চাপের সম্মুখীন হবে। তিনি এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য শক্তি বা বিকল্প জ্বালানি উৎসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে বলে মনে করেন।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা এমপির মাতা মরহুমা হুরন নাহার রশিদের স্মরণে মানিকগঞ্জে দোয়া ও ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) পবিত্র রমজান মাসে আয়োজিত এই মাহফিলে প্রায় ১৫ হাজার রোজাদার মানুষের মাঝে ইফতার বিতরণ করা হয়, যা এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে আলেম-ওলামারা বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন। এ সময় মরহুমা হুরন নাহার রশিদের জীবনের বিভিন্ন দিক স্মরণ করে আফরোজা খানম রিতা বলেন, তিনি ছিলেন মানবিক গুণাবলিতে সমৃদ্ধ, স্নেহশীল ও সমাজকল্যাণে নিবেদিতপ্রাণ একজন মানুষ।

তার মৃত্যুতে সমাজ একজন অভিভাবকসুলভ ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে। অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপিরনূরতাজ আলম বাহার, গোলাম কিবরিয়া সাঈদ, গোলাম আবেদীন কায়ছার, রফিক উদ্দিন ভুইয়া হাবু সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও ধর্মীয় সংগঠনের প্রতিনিধি, এলাকার সুধীজনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।
মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানি প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল ১০টায় রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের অন্যতম নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বর্তমান সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রাথমিকভাবে দেশের হাজার হাজার ধর্মীয় সেবককে মাসিক ভাতার আওতায় আনা হয়েছে।এর মাধ্যমে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জীবনমান উন্নয়ন ও সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই কার্যক্রমে ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের পাশাপাশি ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত ও সেবাইতকে মাসিক সম্মানি প্রদান করা হবে। এ ছাড়া ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজকসহ অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও এই সুবিধার অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রকল্পের আর্থিক রূপরেখা অনুযায়ী, প্রতিটি মসজিদের জন্য মোট ১০ হাজার টাকা মাসিক সম্মানি নির্ধারণ করা হয়েছে।এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মসজিদের ইমাম পাবেন ৫ হাজার টাকা, মুয়াজ্জিন ৩ হাজার টাকা এবং খাদেম ২ হাজার টাকা করে পাবেন।
অন্যদিকে, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উপাসনালয়গুলোর জন্য প্রতি মাসে ৮ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে মন্দিরের পুরোহিত ৫ হাজার টাকা এবং সেবাইত ৩ হাজার টাকা পাবেন। একইভাবে বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ৫ হাজার ও উপাধ্যক্ষ ৩ হাজার টাকা এবং খ্রিস্টান চার্চের পালক বা যাজক ৫ হাজার ও সহকারী যাজক ৩ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সরকারের পদস্থ কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন ধর্মের শীর্ষস্থানীয় প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিহত বা গুরুতর আহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইরানের মিডিয়া। ইরানের তাসনিম নিউজ এজেন্সি সোমবার (৯ মার্চ) সর্বপ্রথম এমন জল্পনা চাউর করে। তবে ফার্সি ভাষার এই সংবাদমাদ্যমটি প্রতিবেদনে নেতানিয়াহুর ওপর হামলা বা কোনও ক্ষতির নিশ্চিত প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। এর পরিবর্তে তাসনিম নিউজ এজেন্সি বেশ কয়েকটি পরিস্থিতিগত বিষয় হাজির করেছে।এসব বিষয়ের মধ্যে রয়েছে,কয়েক দিন ধরে নেতানিয়াহুর কোনো নতুন ভিডিও বার্তা প্রকাশ হয়নি। এ ছাড়া ইসরায়েলি মিডিয়ায় নেতানিয়াহুর বাড়ির চারপাশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন, জ্যারেড কুশনার এবং মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কথিত সফর স্থগিত। সেইসঙ্গে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ও নেতানিয়াহুর মধ্যে একটি ফোনালাপের ফরাসি রেকর্ড, যেখানে কথোপকথনের তারিখ নির্দিষ্ট করা হয়নি।জেরুজালেম পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, তাসনিম নিউজ রাশিয়ান মিডিয়ার বরাতে সাবেক মার্কিন গোয়েন্দা কর্মকর্তা স্কট রিটারের এক্সপোস্টের দাবি ছাড়া আর কোনো প্রমাণ হাজির করেনি। সোমবার এক্সে স্কট রিটার নামের পোস্টে বলা হয়, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে আঘাত হানার পর ঘটনাস্থলেই নিহত হয়েছেন নেতানিয়াহু। এ সময় তার বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন ইতামার বেন-গিভর। তিনি আহত হয়েছেন।
তবে যে অ্যাকাউন্ট থেকে এই পোস্ট করা হয়েছে, সেটি আদৌ স্কট রিটার ব্যবহার করেন কি-না—এখনও নিশ্চিত নয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এসব খবরকে যুদ্ধকালীন ‘অপপ্রচার’ বা ‘ষড়যন্ত্র তত্ত্ব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
এর আগে গত ২ মার্চ কয়েকটি ইরানি সংবাদাধ্যম দাবি করে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ধ্বংস হয়েছে। সেই সঙ্গে নেতানিয়াহু নিহত হয়েছেন।
তবে পরবর্তী সময়ে চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা সিনহুয়াসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর দপ্তরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তথ্য গুজব।
প্রতিটি অসচ্ছল পরিবারকে স্বচ্ছলতার পথে নিয়ে যাওয়াই সরকারের দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানান, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রায় ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। জনগণের আস্থার মর্যাদা রক্ষা করতে সরকার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাজ করছে।
মঙ্গলবার দুপুরের দিকে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের কাজ শুরু করা হয়েছে এবং ধাপে ধাপে মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে।
অনুষ্ঠানে সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনের সভাপতিত্বে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানসহ মন্ত্রিসভার সদস্য, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১৩টি জেলার ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। সুবিধাভোগী নির্বাচন করতে ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সংগৃহীত তথ্য সফটওয়্যারের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে পরিবারের আর্থসামাজিক অবস্থার ভিত্তিতে তাদের বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম ধাপে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে ভাতা দেওয়ার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় দরিদ্র পরিবারগুলোকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে তারা অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারে।
৬ মার্চ, ২০২৬ ভিয়েনা: ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থা ” এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটি ” এর উদ্যোগে ভিয়েনার ২৩ নং ডিস্ট্রিক্ট এ লাক্সারিয়াস এটাপ সেন্টার এ এক ইফতার মাহফিল এর আয়োজন করা হয়। আফগান বংশোদ্ভুত অস্ট্রিয়ান তরুনের সঞ্চালনায় „এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটি ” এর চেয়ারম্যান ও ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ এর সভাপতিত্বে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট তুর্কিশ বংশোদ্ভুত জনাব অমিত ভুরাল, ভিয়েনার পার্লামেন্ট মেম্বার ও ভিয়েনার মেয়র ডঃ মিকায়েল লুডভিগ এর প্রতিনিধি আসলিহান বজাতেমার।

স্বাগত বক্তব্যে জনাব হাসিম এশিয়ান মুসলিম কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ উক্ত ইফতার অনুষ্টানে উপস্থিত হওয়ার জন্য ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব অমিত ভুরাল, বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত জনাব তৌফিক হাসান, ভিয়েনা ভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট মেম্বার ও ভিয়েনার মেয়র ডঃ মিকায়েল লুডভিগ এর প্রতিনিধি আসলিহান বজাতেমার, ভিয়েনা প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট মেম্বার .ইঞ্জিনিয়ার ওমর আল রাবী, অস্ট্রিয়ার প্রধান মুফতি মুস্তাফা মুল্লওগ্লু, ইন্দোনেশিয়ান এম্বাসীর ডেপুটি চিফ জনাব বিট্টু তাহার , মালয়েশিয়ান এম্বাসীর ডেপুটি চিফ জনাব রিডজওয়ান সাহাবুদিন, শ্রীলঙ্কান এম্বাসীর ডেপুটি চিফ জনাব মাহেশ গুনাবরদানা, উজবেকিস্তান এম্বাসীর ডেপুটি চিফ জনাব আব্বসবেক এডিলিভ, অস্ট্রিয়ান ফেডারেল চ্যান্সেলারির প্রতিনিধি জনাব চেঙ্গিজ ডুরান, অথরিটির প্রাক্তন সভাপতি ডক্টর আনাস শাকফে, ডক্টর ফুয়াদ সনাক, টার্কিশ ফেডারেশন এর প্রেসিডেন্ট জনাব আলী চান,ইউনিয়ন অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটস অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব মাহমুদ কোচ, সৌদি সরকার পরিচালিত ভিয়েনা ইসলামিক সেন্টারের পরিচালক ডক্টর আহমেদ আল মফারে, ভিয়েনা ইউনিভার্সিটির প্রফেসর ডক্টর জেকিরিয়া সেজদিনি, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেলের চিফ সায়েন্টিফিক এডভাইসর জনাব সায়েদ আশরাফ সহ সকল উপস্থিতিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটির গুরুত্বপূর্ণ এইমাহফিলে প্রায় দেড় শতাধিক মুসলিম ব্যক্তিত্বের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন টার্কিশদের চারটি সর্ববৃহৎ ইসলামিক কমুনিটির নেতৃবৃন্দ, বসনিয়ান, আরাবিয়ান, আলবেনিয়ান ইসলামিক কমুনিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, ভিয়েনাস্ত জাতিসংগের বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত মুসলিম ডিপ্লোম্যাট এবং সায়েন্টিস্টগণ। তাছাড়া উপস্থিত ছিলেন অস্ট্রিয়ায় বসবাসরত এশিয়ার দেশ সমূহ যথা ইন্দোনেশিয়ান, মালয়েশিয়ান, আরাকান, বাংলাদেশ, ইন্ডিয়া, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান মুসলিম কমুনিটির নেতৃবৃন্দ।
বাংলাদেশী কমিনিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত জনাব তৌফিক হাসান, ফার্স্ট সেক্রেটারি জনাব তানভীর আহমেদ, নিউক্লিয়ার আটটাছে (কোনসেলোর ) জনাব তানভীর হাসান, ভিয়েনা মুসলিম সেন্টার ও মাসজিদুল ফালাহর নেতৃবৃন্দ মাহেরুল হক শামীম, মোরাদুল আলম, মহিউদ্দিন আহমদ, ইঞ্জিনিয়ার রবিউল আলম, হাবিবুর রহমান, ইমাম জনাব আবু মুসা, বাংলাদেশ অস্ট্রিয়া এসোসিয়েশনের সভাপতি জনাব আক্তারুজ্জামান শিবলী, ব্যাবসায়ী আরিফিন রিকো, ডক্টর মাহমুদুল হাসান, মনজুরুল হাসান প্রমুখ।
ভিয়েনা, ০২, মার্চ সোমবার : অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ২৩ নং ডিস্ট্রিক্ট এ অস্ট্রিয়ান সরকারের পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নিরাপত্তায় প্রায় দেড় হাজার অতিথি ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন „রয়েল ইভেন্ট হলে“ ইউনিয়ন অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটস, ভিয়েনার উদ্যোগে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মুসলিম নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক ইফতার অনুষ্টানের আয়োজন করা হয়।

ইউনিয়ন অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটস, ভিয়েনার প্রেসিডেন্ট জনাব মাহমুদ কোচ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টার্কিশ প্রেসিডেন্ট এরদোগানের ছেলে নেসমেদ্দিন বিলাল এরদোগান ও বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন এ কে পার্টির ভাইস প্রেসিডেন্ট জাফের সিরাকায়া। জনাব মাহমুদ কোচ স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে সাদর অভ্যর্থনা জানান প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি সহ উপস্থিত হাজারো জনতাকে। শুরুতেই গরুত্বপূর্ণ বক্তব্য পেশ করেন জার্মানি থেকে আগত ইউনিয়ন অফ ইন্টারন্যাশনাল ডেমোক্র্যাটস এর কেন্দ্রীয় সভাপতি জনাব কেনান আসলান।
প্রধান অতিথি জনাব বিলাল এরদোগান সুমধুর কোরআন তিলাওয়াত সহ এরদোগান সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্ম কান্ড সেই সাথে মাহে রমজানের গরুত্ব, শিক্ষা, অস্ট্রিয়া ও ইউরোপে মুসলমানদের চ্যালেঞ্জ, করণীয় ইত্যাদি নানাবিধ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা পেশ করেন।

রাজনৈতিক ভাবে গুরুত্বপূর্ণ উক্ত ইফতার অনুষ্ঠানটিতে উপস্থিত ছিলেন অসংখ্য টার্কিশ ব্যাবসায়িক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, বসনিয়ান, আরবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ান কমিউনিটির মুসলিম নেতৃবৃন্দ ।
বাংলাদেশি কমিউনিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্য ও এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ।
অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার মেয়র ডক্টর মিকায়েল লুডভিগ ভিয়েনার পৌর প্রশাসনের প্রধান কার্যালয় ভিয়েনা সিটি হলে মুসলিম নেতৃবৃন্দের সম্মানে মঙ্গলবার (২৫, ফেব্রুয়ারী) এক জাকজমক পূর্ণ ইফতারের আয়োজন করেন । মেয়র ডক্টর মিকায়েল লুডভিগ এর সভাপতিত্বে ইফতার অনুষ্ঠানটিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব অমিত ভুরাল । অস্ট্রিয়ার বিভিন্ন ইসলামিক কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সরকারী দপ্তরের উর্দ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডক্টর লুডভিগ স্বাগত বক্তব্যের শুরুতে সাদর অভ্যর্থনা জানান প্রধান অতিথি ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট জনাব অমিত ভুরাল সহ সকল ইসলামিক কমুনিটির নেতৃবৃন্দকে। সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, জাতীয় ইত্যাদি বিষয়ে ভিয়েনা সিটি মেয়রের সাথে সহযোগিতা মূলক কাজ করার জন্য ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়া ও বিভিন্ন ইসলামিক কমিনিটির নেতৃবৃন্দের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন জনাব লুডভিগ ।
ইফতার অনুষ্ঠানটির প্রটোকল টেবিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- অস্ট্রিয়ার প্রধান মুফতি মুস্তাফা মূল্লুগ্গলো, অথরিটির ভাইস-প্রেসিডেন্ট বসনিয়ান বংশোদ্ভুত আদিস কান্দিস, ভিয়েনা প্রভিন্সিয়াল পার্লামেন্ট মেম্বার আসলিহান বজাতেমার, অথরিটির সাবেক প্রেসিডেন্ট ড. আনাস শাকফে, ড. ফুয়াদ সানাচ, টার্কিশ ইসলামিক কমিউনিটির (আতিব ) চেয়ারম্যান আজিজ অল্টিনেল, এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটির এর চেয়ারম্যান ও ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ, অথরিটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্যগণ, কেন্দ্রীয় শুরা সদস্যগণ, অস্ট্রিয়ার সকল স্কুল কলেজের ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত শিক্ষকদের পরিদর্শক বৃন্দ, ঈমাম পরিষদ, টার্কিশ, বসনিয়ান, আরবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ানদের দশটি ইসলামিক কমিউনিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ সমগ্র অস্ট্রিয়া থেকে আগত প্রায় তিন শতাধিক মুসলিম নেতৃবৃন্দ ।
এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটির এর চেয়ারম্যান ও ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ, উক্ত মাহফিলে আমন্ত্রনের জন্য ভিয়েনার মেয়র ডক্টর মিকায়েল লুডভিগকে „এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটি পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
বাংলাদেশী কমুনিটির আরও পক্ষে উপস্থিত ছিলেন – ড. ফারুক আল মাদানী, রফিকুল ইসলাম রুবেল ।
দেশের অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে ট্যাক্স (কর) ও দেশি–বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ট্যাক্স বাড়াতে হবে। পাশাপাশি দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। সামনে এগুলোই অগ্রাধিকার পাবে। এ ছাড়া বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থানকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আজ শুক্রবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গায় প্রস্তাবিত সরকারি হাসপাতালের জন্য নির্ধারিত জমি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী।
বিনিয়োগ ছাড়া কর্মসংস্থান সম্ভব নয় উল্লেখ করে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএনপির নির্বাচনী কর্মসূচির মধ্যে কর্মসংস্থান একটি বড় কর্মসূচি। সে কারণেই সরকার দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগে জোর দিচ্ছে। আগামী বাজেটেও কর্মসংস্থান সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে। এটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ নেওয়া হবে।চট্টগ্রাম–১১ (বন্দর ও পতেঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পতেঙ্গা অঞ্চলে কোনো বড় হাসপাতাল না থাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি হাসপাতালের দাবি রয়েছে। সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একটি বড় জেনারেল হাসপাতাল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যেখানে বিশেষায়িত সেবাও থাকবে। পাশাপাশি একটি নার্সিং ইনস্টিটিউট ও টেকনোলজিস্টদের জন্য আলাদা ইনস্টিটিউট স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
এদিন বিকেলে অর্থমন্ত্রী বানৌজা উল্কার আবাদ অঞ্চল–২–এর পশ্চিম পাশে মেরিন ড্রাইভ–সংলগ্ন মুসলিমাবাদ এলাকায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর অধিগ্রহণকৃত জমি পরিদর্শন করেন। পরে পতেঙ্গায় সরকারি হাসপাতাল নির্মাণের লক্ষ্যে নৌবাহিনীর অধিগ্রহণ করা ১৪ দশমিক ২১ একর জমি সরেজমিন ঘুরে দেখেন।
ফলাফল প্রকাশের ১৩ দিন পর গণভোটের ফলাফল সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইতিমধ্যে ইসি গণভোটের ফলাফলের সংশোধিত গেজেট প্রকাশ করেছে। তাতে আগে প্রকাশিত ফলাফলের চেয়ে মোট প্রদত্ত ভোট ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬ কম। সংশোধিত ফলাফলে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে, বেড়েছে বাতিল হওয়া ভোটের সংখ্যা।
২৫ ফেব্রুয়ারি তারিখে এই গেজেটে সই করেছেন ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ।
জুলাই জাতীয় সনদের সংবিধান সম্পর্কিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট হয়। পরদিন ১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে বেসরকারিভাবে গণভোটেরও ফলাফল ঘোষণা করেছিলেন ইসি সচিব। একই দিন রাতে ফলাফলের গেজেট জারি করা হয়েছিল। ১৩ ফেব্রুয়ারি ইসি সচিব গণভোটে হ্যাঁ ও না ভোট পড়ার যে সংখ্যা উল্লেখ করেছিলেন, ওই রাতে প্রকাশিত গেজেটের সঙ্গে তার গরমিল ছিল।
১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলে ইসি সচিব বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সারা দেশে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯টি। ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭টি। এরপর ইসি আসনভিত্তিক গণভোটের ফলাফল প্রকাশ করেছিল। সেখানে বেশ কিছু গরমিল নিয়ে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ওই রাতে বেসরকারি ফলাফল সংশোধন করেছিল ইসি।
মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বাগেরহাটের খান আকরাম হোসেন আপিলে খালাস পেয়েছেন। প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী–এর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ বৃহস্পতিবার এ রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ে বাগেরহাটের শেখ সিরাজুল হককে মৃত্যুদণ্ড এবং খান আকরাম হোসেনকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে একই বছর আপিল করেন খান আকরাম।
আপিলের শুনানি শেষে আদালত তাঁর আপিল মঞ্জুর করেন। আদালতে খান আকরামের পক্ষে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক এবং রাষ্ট্রপক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম শুনানিতে অংশ নেন।
রায় ঘোষণার পর ইমরান এ সিদ্দিক জানান, আপিল মঞ্জুর হওয়ায় খান আকরাম হোসেন মামলাটি থেকে খালাস পেয়েছেন। তিনি বর্তমানে কাশিমপুর কারাগারে আছেন এবং খালাসের ফলে তাঁর মুক্তিতে আইনগত আর কোনো বাধা নেই।
তবে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ১০ জুন এ মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়। একই বছরের ২০ জুন আকরামকে রাজশাহী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। আত্মগোপনে থাকা সিরাজুলকে ২১ জুলাই বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা গ্রাম থেকে আটক করা হয়।
মামলায় তিন আসামির বিরুদ্ধে সাতটি অভিযোগ আনা হয়েছিল। ট্রাইব্যুনালের রায়ে সিরাজুলের বিরুদ্ধে আনা ছয়টির মধ্যে পাঁচটি অভিযোগ প্রমাণিত হয় এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। আকরামের বিরুদ্ধে আনা দুটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়। অপর আসামি আবদুল লতিফ তালুকদার বিচারাধীন অবস্থায় চিকিৎসাধীন থেকে মারা গেলে তাঁর নাম আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি ) অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনার ঐতিহাসিক ক্যাসেল কোবেনজলে
ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার উদ্দ্যোগে মুসলিম ও সকল ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সম্মানে এক রাজকীয় আন্তঃধর্মীয় (ইন্টার ফেইথ) ইফতারের আয়োজন করা হয়। অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী সকল মুসলমানদের গরুত্বপূর্ণ সংস্থাটির আন্তঃধর্মীয় (ইন্টার ফেইথ) ইফতার অনুষ্টানটি অলংকৃত করেন প্রধান অতিথি হিসাবে অস্ট্রিয়ার মহামান্য প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভান দেয়ার বেল্লে।
মুসলিম বিশ্বের ৪০ টি দেশের রাষ্ট্রদূতগণ, অস্ট্রিয়ান কূটনীতিক, পার্লামেন্ট মেম্বার ,অস্ট্রিয়ার প্রধান মুফতি মুস্তাফা মূল্লুগ্গলো, অস্ট্রিয়ান ক্যাথলিক চার্চের প্রধান কার্ডিনাল ক্রিস্তফ শোনবর্ন, ইহুদি ধর্মের প্রধান রাবি শ্লোমো হফমাইস্টার, অন্যান্য ধর্মীয় প্রধান ব্যক্তিবর্গ, অথরিটির সুপ্রিম কাউন্সিল সদস্যগণ, ইসলামিক কমিউনিটির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ দুই শতাধিক নারী পুরুষের উপস্থিতিতে এদিনা হুসোভিচ , হেড অফ রিলিজিয়াস অথরিটি অফিস এর সঞ্চালনায় উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট তুর্কিশ বংশোদ্ভুত জনাব অমিত ভুরাল।
স্বাগত বক্তব্য জনাব ভুরাল মহামান্য প্রেসিডেন্ট কে উনার উপস্থিতির জন্য বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন ও সেই সাথে সকল উপস্থিতিকে ধন্যবাদ জানান। জনাব ভুরাল বলেন, “মিঃ ফেডারেল প্রেসিডেন্ট, আপনি প্রায়শই ঐক্যের ডাক দেন। আজ আমি আপনাকে আশ্বস্ত করতে চাই: অস্ট্রিয়ার মুসলিম সম্প্রদায় নিজেকে এই নিশ্চিততার স্তম্ভ হিসেবে দেখে। আমরা আমাদের আশেপাশের এলাকায় স্বেচ্ছাসেবামূলক সেবার মাধ্যমে এবং আমাদের মাতৃভূমির সামাজিক কাঠামোর মধ্যে অবদান রাখি। একটি সাংবিধানিক রাষ্ট্রে মৌলিক অধিকার এবং নীতি যেমন সমতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং রাষ্ট্রীয় নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করে। এই কারণেই, স্কুলের মেয়েদের জন্য স্কার্ফ নিষিদ্ধকরণ সংবিধানের পরিপন্থী এবং সাংবিধানিক আদালত কর্তৃক পর্যালোচনা করা উচিত। তবুও এই সন্ধ্যায় আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি আইনি বিতর্কের সীমানায় থেমে থাকা উচিত নয়। আমরা এমন একটি পৃথিবীতে বাস করছি যেখানে পরিবর্তন ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তন আমাদের শিশুদের জীবনের ভিত্তিকে হুমকির মুখে ফেলছে, যুদ্ধ নিরীহ মানুষের উপর অবর্ণনীয় দুর্ভোগ ডেকে আনছে।“সব শেষে জনাব ভুরাল উল্লেখ করেন , আমি আমাদের সকলের কাছে কামনা করি যে আমরা আজকের নির্ভরতার কিছুটা অংশ আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বহন করি, যাতে আমরা এমন এক সময়ে আশার দূত হয়ে উঠি যখন এটির খুব জরুরি প্রয়োজন।
আন্তঃধর্মীয় (ইন্টারফেইথ) ইফতারে আরও উপস্থিত ছিলেন- টার্কিশ, বসনিয়ান, আরবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ানদের দশটি ইসলামিক কমিউনিটির চেয়ারম্যান গণ।
বাংলাদেশী কমুনিটির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন -বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত জনাব তৌফিক হাসান ও ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সুপ্রিম কাউন্সিল মেম্বার ও এশিয়ান ইসলামিক কমিউনিটি এর চেয়ারম্যান বাংলাদেশী বংশোদ্ভুত ইঞ্জিনিয়ার হাসিম মোহাম্মেদ।
উল্লেখ্য, ইউরোপের মধ্যে, অস্ট্রিয়া একটা ব্যাতিক্রমধর্মী দেশ। যেখানে ১৯১২ সাল থেকে ইসলাম অস্ট্রিয়ায় সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত একটি ধর্ম। অটোমান বা উসমানীয় সম্রাজ্য কর্তৃক ১৪৬৩ সাল থেকে ১৮৭৮ সাল পর্যন্ত শাসিত ও ১৯০৮ পর্যন্ত অটোমান অঞ্চল হিসেবে স্বীকৃত মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বসনিয়া ও হার্জেগোভিনাকে ১৯০৮ সালে অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্য (১৮৬৭ থেকে ১৯১৮) তাদের অধীনে সংযুক্ত করে।

অস্ট্রো-হাঙ্গেরিয়ান সাম্রাজ্যের এই অঞ্চলে ৬ লাখ মুসলমান বাস করত, যাদের ধর্মীয় অনুশীলনকে রক্ষা করা জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। সেই সময় বসনিয়ান মুসলমানরা সম্রাটের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করতেন, ইমামরা সামরিক চ্যাপ্লেন(ধর্মগুরু) হিসেবে কাজ করতেন। মুসলমানদের ধর্মীয় অনুশীলন রক্ষায়, ১৮৭৪ সালে সম্পাদিত স্বীকৃতি আইন ১৮৭৪ (Anerkennungsgesetz 1874,
RGBl. Nr. 68/1874- যা ধর্মীয় সমাজের আইনি স্বীকৃতি) মোতাবেক ১৯১২ সালে অস্ট্রিয়ায় ইসলাম আইনি স্বীকৃতি পায়। ( Art. 15 Staatsgrundgesetz, RGBl. Nr. 142/1867, Art. I Islamgesetz, RGBl. Nr. 154/1912 gesetzlich anerkannt.)
১৯৭১ সালে মুসলমানদের একটি সংস্থা ‘ইসলামী আইন ১৯১২’-এর ধারা মোতাবেক একটি ইসলামিক কমিউনিটি প্রতিষ্ঠা করার জন্য আবেদন করলে, ফলস্বরূপ ১৯৭৯ সালে ‘ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়া’ পাবলিক আইনের অধীনে একটি কর্পোরেশন হিসেবে গঠিত হয়। অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী টার্কিশ, বসনিয়ান, অ্যারাবিয়ান, আলবেনিয়ান, আফ্রিকান ও এশিয়ানদের নেতৃত্বাধীন প্রায় চার শ’ মসজিদ ও ইসলামিক সংস্থার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা প্রধানত ১০টি বৃহৎ ইসলামিক কমিউনিটির (Kultusgemeinde) কেন্দ্রীয় সংস্থা ‘ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়া’।
সংস্থাটি পাবলিক আইনের অধীনে একটি কর্পোরেশন হিসেবে অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী সমস্ত মুসলমানদের ধর্মীয় বিষয়ের সরকারী প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করে, অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলি নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে স্বায়ত্তশাসনও উপভোগ করে। এটি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, অন্যান্য ধর্মীয় সম্প্রদায় এবং অস্ট্রিয়ার নাগরিক প্রতিষ্ঠানের ইন্টারফেস। অস্ট্রিয়ান সকল স্কুলে সংস্থাটি কর্তৃক নিয়োগকৃত ও অস্ট্রিয়ান সরকারের বেতনভুক্ত ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষকদের মাধ্যমে ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষার ব্যবস্তা করা, ইসলামী ধর্মীয় শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং তাদের চলমান প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা করাসহ মুসলমানদের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বহুবিধ কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।
ইসলামিক রিলিজিয়াস অথরিটি ইন অস্ট্রিয়ার সভাপতিগণ-
আহমদ আবদেল রহিমসাই (১৯৭৯–১৯৯৯)
ডক্টর আনাস শাকফেহ (১৯৯৯-২০১১)
ডক্টর ফুয়াদ সনাক (২০১১-২০১৬)
ইব্রাহিম ওলগুন (২০১৬-২০১৮)
আইনবিদ অমিত ভুরাল (২০১৮ সাল থেকে-বর্তমান)
চলতি বছরের সাদাকাতুল ফিতরের (ফিতরা) হার নির্ধারণ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। এবার জনপ্রতি সর্বোচ্চ ২ হাজার ৮০৫ টাকা ও সর্বনিম্ন ১১০ টাকা ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়েছে। আজ বুধবার ইসলামিক ফাউন্ডেশনের জনসংযোগ শাখার পক্ষ থেকে দেওয়া এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, আজ দুপুরে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভায় ১৪৪৭ হিজরি সনের রমজান মাসে ফিতরার হার নির্ধারণ করা হয়। ইসলামিক ফাউন্ডেশন বায়তুল মোকাররম সভাকক্ষে এ সভা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ফিতরা নির্ধারণ কমিটির সভাপতি ও বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মাওলানা আবদুল মালেক।
এখন সরকারি প্রজ্ঞাপনের ভিত্তিতে মো. মোস্তাকুর রহমানকে বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, এবং আহসান এইচ মনসুর কে ওই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকার ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যার মাধ্যমে মনসুরের বাকি মেয়াদ বাতিল করা হয়েছে এবং মো. মোস্তাকুর রহমানকে চার বছরের মেয়াদে গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। অর্ন্তভূক্ত শর্ত হিসেবে তিনি অন্য প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের কোনো কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকলে তা ছাড়তে হবেন। স্থগিতাদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
মোস্তাকুর রহমান একজন অভিজ্ঞ হিসাববিদ এবং বাংলাদেশের আর্থিক খাতে দীর্ঘ সময় কর্মরত। তিনি পূর্বে বাংলাদেশ ব্যাংকের বিভিন্ন বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
এ ধরনের পরিবর্তন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নেতৃত্বে বড় ধরনের টানা পরিবর্তনের একটি ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলের ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক আরও ১ হাজার ২০২টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ মঙ্গলবার এ তথ্য জানানো হয়।সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে বিরোধী দলের নেতা–কর্মীদের রাজনৈতিকভাবে হয়রানি করার জন্যই এসব মামলা দায়ের করা হয়। অনেক যাচাই-বাছাইয়ের পরই এসব মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।এর আগে গত রোববার জানানো হয়েছিল, বিগত ১৭ বছর ধরে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক ১ হাজার ছয়টি মামলা প্রত্যাহারের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, এ দেশের এয়ারপোর্টে নামলে প্রবাসীরা যেন সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশ দেখতে পায় সেই ব্যাপারে আমাদের অগ্রাধিকার দিতে হবে। উনারা যেন বুঝতে পারেন আগের থেকে সবকিছুতে একটা ভালো পরিবর্তন এসেছে সেই দিকে আমাদের সবার খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চেষ্টা করছেন যাতে সামনে থার্ড টার্মিনাল চালু করা যায়। সে ব্যাপারে তিনি নির্দেশনা দিয়েছেন। আসন্ন হজ্বে হজ্বযাত্রীদের যেন কোনো অসুবিধা না হয় সেটার বিষয়েও আমাদের নজরদাড়ি বাড়াতে হবে।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে মন্ত্রী হবার পর প্রথমবার সরকারি সফরে এসে সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ কার্যালয় খোলার বিষয়টি আইনের আওতায় বিচার করা হবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, “বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের অফিস খোলা হচ্ছে—এটা আমরা চাইনি। উপরন্তু আইনগতভাবে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায়, সেসব বিষয়ে আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর এটি প্রথমবারের মতো বিএনপির কোনো মন্ত্রী বা শীর্ষ নেতা নয়াপল্টনের কার্যালয়ে যান। সকাল আয়োজনের সময় দলের নেতা-কর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে অভিনন্দন জানান।
পরবর্তীতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল আরও বলেন, নয়াপল্টনের এই কার্যালয় থেকেই বিগত সময়ে সবচেয়ে বৃহৎ আন্দোলন ও কার্যক্রম সংগঠিত হয়েছে, যেগুলোর নেতৃত্ব দেন প্রয়াত চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে নড়াইল সদর উপজেলার সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের বড়কুলা গ্রামে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই প্রতিপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, এতে চারজন নিহত হয়েছেন এবং ইতোমধ্যেই পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য নিয়ে বিরোধ চলছিল। সোমবার ভোর প্রায় ৫টা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ দুইদল মুখোমুখি অবস্থানে আসে এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার সময় সংঘর্ষে তাদের মধ্যে মারামারি শুরু হয়।
নিহতদের মধ্যে রয়েছে বড়কুলা গ্রামের খলিল গ্রুপের রহমান খলিল, তার ছেলে তাহাজ্জুদ হোসেন, একই পক্ষের ফেরদৌস হোসেন এবং বিরোধী গ্রুপের সাবেক চেয়ারম্যান সমর্থক ওসিবুর মিয়া। সংঘর্ষে তাদের ঘটনাস্থলেই ও পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করেছে এবং পরিস্থিতি শান্ত রাখতে কাজ করছে। নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওলি মিয়া জানান, সংঘর্ষের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযান চালিয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের প্রস্তুতি চলছে।
বাংলাদেশ সরকারের নতুন প্রজ্ঞাপনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে অ্যাডভোকেট মোঃ আমিনুল ইসলাম-কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, এবং পূর্বের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম-এর নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সলিসিটর বিভাগ সোমবার সকালে এ সংক্রান্ত অফিশিয়াল গেজেট নোটিফিকেশন জারি করেছে, যার মাধ্যমে আমিনুল ইসলামকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে এবং তাজুল ইসলামের আগের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। এই নিয়োগ তৎক্ষণাৎ কার্যকর হবে এবং তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত এই দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেলের সমমানের পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও সুবিধা ভোগ করবেন।
তাজুল ইসলামকে ২০২৪ সালের ৭ ও ৮ সেপ্টেম্বর তখনকার সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিল, এবং তার অধীনে আইসিটি-তে বিভিন্ন মানবতাবিরোধী অপরাধ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার অভিযোগ দায়ের ও বিচার হচ্ছিল।
এদিকে আইসিটি বর্তমানে জুলাই-আগস্ট ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত মানবতাবিরোধী অপরাধসহ বিভিন্ন মামলার বিচার পরিচালনা করছে, যেগুলোর মধ্যে কয়েকটি মামলার রায় ইতোমধ্যেই ঘোষণা হয়েছে এবং অন্যান্য মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টা ১ মিনিটে ভাষাশহীদদের প্রতি ফুলেল শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের সিনিয়র প্রচার সহকারী মুজিবুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন।
১১ দলীয় ঐক্যের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জামায়াত আমিরের সঙ্গে উপস্থিত থাকবেন।
এরপর তিনি আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করতে যাবেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, জনগণের অধিকার ও সমতা প্রতিষ্ঠাই ছিল একুশের মূল চেতনা। এ চেতনাকে ধারণ করে দীর্ঘ লড়াই সংগ্রাম পার হয়ে দেশে আজ গণতন্ত্র পুনপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। গণতন্ত্রের এই অগ্রযাত্রাকে সুসংহত করতে বর্তমান সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
আগামীকাল শনিবার মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে আমাদের মাতৃভাষা বাংলাসহ বিশ্বের সকল ভাষাভাষী মানুষ ও জাতিগোষ্ঠীকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আজকের এই দিনে, আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সকল শহীদকে, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা।’
একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় জীবনের এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৫২ সালের এদিনে মাতৃভাষা বাংলার মর্যাদা রক্ষার লড়াইয়ে শহীদ হন আবুল বরকত, আবদুস সালাম, রফিকউদ্দিন আহমদ, আব্দুল জব্বারসহ আরো অনেকে। তাদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে রচিত হয় শত বছরের শাসন ও শোষণে জর্জরিত তৎকালীন পূর্ব বাংলার মুক্তির প্রথম সোপান। মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার এই আন্দোলন শুধু ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠাই করেনি, বরং বাঙালির স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও সাংস্কৃতিক চেতনার ভিত্তিকে করেছে আরো মজবুত ও সুদৃঢ়। একুশের এই রক্তাক্ত পথ ধরেই মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা অর্জন করেছি বাংলাদেশের স্বাধীনতা।
তিনি বলেন, বাংলা ভাষা আমাদের আত্মপরিচয়ের প্রধান বাহন। মাতৃভাষার জন্য আমাদের ত্যাগ ও ভালোবাসার স্বীকৃতিস্বরূপ ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করেছে। একুশের চেতনা আজ বিশ্বজুড়ে সকল ভাষার মর্যাদা রক্ষা ও সুরক্ষার আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমরা ভাষা শহীদ এবং ৭১ সালে স্বাধীনতা অর্জন ও ২০২৪-এর স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধসহ এ যাবতকালে দেশে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সকল শহীদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে একটি স্বনির্ভর, নিরাপদ, মানবিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়তে চাই।’
আজকের এই দিনে বিশ্বজুড়ে সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষাসমূহের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা দেশে বিদ্যমান ভাষাবৈচিত্র্যকে সংরক্ষণ করি, নিজস্ব সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি সর্বস্তরে বাংলা ভাষার সঠিক ব্যবহার ও চর্চা নিশ্চিত করি।’
সকল ভাষা শহীদের মাগফেরাত কামনা করে প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন। সূত্র: বাসস
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, রাতে কিশোররা অযাচিত ঘোরাঘুরি করলে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদ করবে। এতে কনস্টিটিউশনাল ভায়োলেন্স হলে সেটি আমরা পরে দেখবো।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ নির্বাচনি এলাকা চাঁদপুরের কচুয়ায় স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা দেন তিনি।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা দুর্নীতিমুক্ত না থাকতে পারলে বদলি হয়ে অন্যত্র চলে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়ে এহছানুল হক মিলন বলেন, আমি জীবনে দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতে দেবো না, এটি আমার প্রমিজ (প্রতিজ্ঞা)।
তিনি আরও বলেন, আমার এই প্রমিজের সঙ্গে যারা থাকতে পারবেন না তারা দয়া করে এখান থেকে অন্যত্র বদলি হয়ে চলে যান। আর না হয় আমাকে বলবেন আমি ভালো জায়গা দেখে বদলি করে দেব। কিন্তু আমি এখানটাকে পবিত্র রাখবো।
এ সময় চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মো. নাজমুল ইসলাম সরকার, পুলিশ সুপার রবিউল হাসান, কচুয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান রাসেল, থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বোরহানউদ্দিনসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য জামায়াতে ইসলামীর নতুন নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী ও কর্মপরিষদ গঠন করা হয়েছে। শুক্রবার সকালে মগবাজারে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত মজলিসে শূরার ভার্চুয়াল বৈঠকে এসব পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং সংশ্লিষ্টদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে নায়েবে আমির, সেক্রেটারি জেনারেল, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা অংশগ্রহণ করেন এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার (পুরুষ ও মহিলা) সদস্যরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
বৈঠকে জামায়াত আমির কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সঙ্গে পরামর্শ করে ২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য চারজনকে নায়েবে আমির নির্বাচিত করা হয়। তারা হলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং মাওলানা আনম শামসুল ইসলাম।
সেক্রেটারি জেনারেল হয়েছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। সহকারী সেক্রেটারি জেনারেলরা হলেন মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান এবং অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য ২১ সদস্যের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ গঠন করা হয়েছে। সদস্যরা হলেন এটিএম আজহারুল ইসলাম, অধ্যাপক মুজিবুর রহমান, ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার, মাওলানা এটিএম মা’ছুম, মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, ড. হামিদুর রহমান আযাদ, মাওলানা আবদুল হালিম, অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, মাওলানা মোহাম্মদ শাহজাহান, অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, আবদুর রব, সাইফুল আলম খান মিলন, অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ, মো. মোবারক হোসাইন, মো. নূরুল ইসলাম বুলবুল, মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ, ড. মোহাম্মাদ রেজাউল করিম।
২০২৬-২০২৮ কার্যকালের জন্য ৮৮ সদস্যের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ গঠন করা হয়। তাদের মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ২১ জন।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরায় জাতীয় পর্যায়ে সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ৫৯ জন। তাদের মধ্যে নারী সদস্য রয়েছেন ১৭ জন।
৫ সদস্যবিশিষ্ট কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার মাওলানা এটিএম মা’ছুম; নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট মুয়ায্যম হোসাইন হেলাল, আবদুর রব, মোবারক হোসাইন ও মাওলানা আ ফ ম আবদুস সাত্তার।
সারাদেশে ১৪টি অঞ্চলে পরিচালক মনোনীত করা হয়েছে। মনোনীতরা হলেন রংপুর-দিনাজপুর অঞ্চল: মাওলানা আবদুল হালিম, বগুড়া অঞ্চল: এটিএম আজহারুল ইসলাম, রাজশাহী অঞ্চল: মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কুষ্টিয়া-যশোর অঞ্চল: মোবারক হোসাইন, খুলনা অঞ্চল: অধ্যক্ষ মো. ইজ্জত উল্লাহ, বরিশাল অঞ্চল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল, ময়মনসিংহ অঞ্চল: অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দীন, ঢাকা মহানগরী অঞ্চল: মিয়া গোলাম পরওয়ার, ঢাকা উত্তর অঞ্চল সাইফুল আলম খান মিলন, ঢাকা দক্ষিণ অঞ্চল: আবদুর রব, ফরিদপুর অঞ্চল: ড. হামিদুর রহমান আযাদ সাবেক, সিলেট অঞ্চল: অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চল: মাওলানা এটিএম মা’ছুম, চট্টগ্রাম অঞ্চল: মাওলানা মুহাম্মাদ শাহজাহান।
উল্লেখ্য, এর আগে রুকনদের গোপন ভোটের ভিত্তিতে গত বছরের ১ নভেম্বর ডা. শফিকুর রহমানকে তৃতীয়বারের মত আমির নির্বাচিত করা হয়। পরে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। সে সময় মজলিসে শূরার মতামত নিয়ে শুধু এটিএম আজহারকে নায়েবে আমির নির্বাচিত ও শপথ পড়ানো হয়। বাকি পদগুলো জাতীয় নির্বাচন পর্যন্ত বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্বাচনের পর কেন্দ্রীয় কমিটিগুলো নতুন করে নির্বাচন ও গঠন করা হলো।
বাংলাদেশের অন্যতম বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা “সওয়াব” (সোশ্যাল এজেন্সি ফর ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড অ্যাডভান্সমেন্ট ইন বাংলাদেশ) এর উদ্যোগে ও তুর্কী সংস্থার আর্থিক সহায়তায় আজ ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬ তারিখে ঢাকা জেলার অদূরে বসিলা গার্ডেন সিটিতে রমাদান উপলক্ষ্যে পাঁচ শতাধিক সাধারণ মানুষের মাঝে ফুড প্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে। প্রতিটি ফুড প্যাকেটে ২১ কেজি সম ওজনের বিভিন্ন খাদ্যদ্রব্য রয়েছে।
মানবিক সংস্থা হিসেবে সওয়াব সমগ্র বাংলাদেশে বছরজুড়েই বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও সেবামূলক কাজ করে থাকে তারই ধারাবাহিকতায় এ বছর রমাদান উপলক্ষ্যে তুর্কী দাতা সংস্থা ও সওয়াব এর যৌথ উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন স্থানে ত্রিশ হাজার ফুড প্যাকেট ও এক লক্ষ ইফতার বিতরণ করা হবে। আজ বসিলা গার্ডেন সিটিতে রমাদান ফুড প্যাকেট বিতরণ এর কার্যক্রম শুরুর মাধ্যমে উক্ত ধারাবাহিকতা শুরু হয়েছে।
উল্লেখ্য যে সওয়াব এর জেনারেল ম্যানেজার জনাব, লোকমান হোসাইন এর পরিচালনায় রমাদান ফুড প্যাকেট বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয় এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা কেন্দ্রীয় সংসদ এর সহ—সভাপতি জনাব শামসুদ্দিন সাহেব, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা জেলা পশ্চিমের সভাপতি জনাব সাইফুল্লাহ সেলিম, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন ঢাকা জেলা দক্ষিণের সভাপতি জনাব ওহিদুর রহমান, সেক্রেটারি জনাব এনামুল হক সুমন। প্রোগ্রামের সভাপতি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বসিলা গার্ডেন সিটি হাউজিং এর সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব দ্বীন মোহাম্মদ।
উক্ত রমাদান ফুড প্যাকেট বিতরণ প্রোগ্রামে বিদেশি অতিথি হিসেবে তিন জন তুর্কী অতিথি উপস্থিত ছিলেন এছাড়া প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সওয়াব ও সওয়াব ফাউন্ডেশন এর সম্মানিত চেয়ারম্যান জনাব এস এম রাসেদুজ্জামান। অন্যান্য স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উক্ত রমাদান ফুড প্যাকেট বিতরণ প্রোগ্রামে উপস্থিত ছিলেন।
এসময় উপস্থিত অতিথিবৃন্দ সওয়াব এর এই জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য অনুরোধ জানান।
সওয়াব এর এই রমাদন ফুড প্যাকেট উপহার হিসেবে পেয়ে উপকারভোগীরা আনন্দ প্রকাশ করেন এবং কর্তৃপক্ষকে কৃতজ্ঞতা জানান। তারা বলেন, সওয়াব নামক প্রতিষ্ঠানের দেওয়া এই ফুড প্যাকেট কিছুটা হলেও রমজানে তাদের স্বস্তি দিবে।
৫ আগস্টের গণ অভ্যুত্থানের পর যখন দেশ গভীর সংকটের মুখে পড়েছিল, তথাকথিত রাজনৈতিক শৃঙ্খলা টলিয়ে স্বাধীনতার পর সবচেয়ে বড় সামাজিক আন্দোলন বাংলাদেশে গড়ে ওঠে। সেই মুহূর্তে দেশের নেতাদের মধ্যে জনগণের বিশ্বাস সবচেয়ে বেশি ছিল নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ও অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনুস-এর প্রতি। আন্দোলনের নেতা-সমর্থকরা তাঁকে সরকারের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তাব করেন, এবং শুরুটা হয় সেই প্রত্যাশার আলোয়।
অবশেষে ড. ইউনুস ৮ আগস্ট ২০২৪ সালে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের হাতে। এটি ছিল দেশের ইতিহাসে অপ্রত্যাশিত ও ব্যতিক্রমধর্মী একটি ঘটনা — কারণ তিনি কখনো ধ্রুব রাজনৈতিক ব্যক্তি নন, বরঞ্চ তিনি একটি মানবিক ও সমাজবান্ধব নেতৃত্ব টীকায় পরিণত হয়েছিলেন।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের সময় নিজ অবস্থান স্পষ্ট করেছিলেন যে তিনি ব্যক্তিগত উচ্চাভিলাষ থেকে নয়, বরং “জনগণের ইচ্ছা এবং দেশের পরিবর্তনের দাবি” মেনে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তিনি বারবার অনুরোধ জানিয়েছেন যে তার কাজটি একটি সময়োপযোগী দায়িত্ব যা দেশের জন্য প্রয়োজন ছিল।
ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব ছিল বাড়তি রাজনৈতিক বিভাজন কাটিয়ে দেশের শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা, আইন-শৃঙ্খলা ঠিক রাখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় শক্তিশালী করা, এবং অবাধ-সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করা। এই কাজগুলো দেশের জনগণের কাছে ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আশা ও দাবির কেন্দ্রবিন্দু।
যদিও দায়িত্ব নেওয়ার পর নানা রাজনৈতিক চাপ, সমালোচনা এবং পরিস্থিতির জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়েছে, তবুও ড. ইউনুসের সরকারের অধীনে দেশে একটি স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ভিত্তি গড়ে তোলা হয়েছে। আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, দেশের সংবিধান ও আইন-শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার এবং একে সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে পরিচালনার জন্য যথেষ্ট কাজ করা হয়েছে।
জনগণের মনে ড. ইউনুসের প্রতি যে চরম শ্রদ্ধা গড়ে উঠেছে, তার পেছনে তার অবদানের ইতিহাস, মানবিক চেতনা ও দেশপ্রেম অন্যতম প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। তিনি বিশ্বব্যাপী গ্রামীণ ব্যাংক এবং মাইক্রোক্রেডিট মডেলের মাধ্যমে দরিদ্র মানুষের ক্ষমতায়নের কাজ করে গেছেন, যা তাকে “পিপলস ব্যাংকার” হিসেবে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছে। সেই কারণে মানুষ এখন তাঁকে শুধু একজন প্রশাসনিক প্রধান হিসেবেই নয়, বরং দেশের পরিবর্তনের প্রতীক ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবেও মনে করছে।
তবে ড. ইউনুস নিজেও বারবার বলেছেন যে দায়িত্বটি গ্রহণ করেছেন নেতৃত্বের জন্য নয়, বরং দায়িত্ব পালন করার জন্য। তিনি উল্লেখ করেছেন যে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে তিনি কোনো সরকারি পদে থাকবেন না, এবং নতুন নির্বাচিত সরকারের হাতে দায়িত্ব হস্তান্তর করছেন।
এমনকি মানুষের মধ্যে একটি অংশের মতামতও এসেছে যে “ড. ইউনুস যদি দেশের সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকেন, তাহলে বাংলাদেশ আরও উন্নত, ন্যায়সঙ্গত ও মানবিক সমাজের দিকে এগিয়ে যাবে।” অনেকের মতে, তার নিরাপত্তা, সততা ও জনবান্ধব নীতিগুলো তাকে রাষ্ট্রীয় কোন শীর্ষ দায়িত্বে দেখতে চান। যদিও তিনি নিজে তা প্রত্যাশা করেন নাই , তবুও জনগণের আকাঙ্ক্ষা ও ভালোবাসা তাকে আজ এক বিশেষ মানুষের মর্যাদায় পদার্পন করেছে।
অবশ্যই, তার নেতৃত্বে যাওয়া দিনগুলোতে ছিলো অনেক সমালোচনা উত্তরোত্তর আলোচনা ,সবই লেগে আছে। কিন্তু ব্যাপারটি অনস্বীকার্য যে ড. মুহাম্মদ ইউনুস দেশের বর্তমান সংকটের সময়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সেই দায়িত্ববোধ দিয়ে, যা অনেকেই সরকারের অন্যান্য যেকোনো ব্যক্তির মধ্যে খুঁজে পায়নি।
জুলাই গণ অভ্যুত্থানের পর দেশে নতুন সরকার গঠন এবং জাতীয় সংসদ কার্যক্রম শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে একটি সরকার গঠন হচ্ছে। আজ সকাল সংসদ ভবনে নির্বাচিত এমপিরা শপথ গ্রহণ করবেন এবং বিকেলে প্রথমে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং পরে নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। নতুন সরকার হবে তুলনামূলক ছোট আকারের; এতে নবীন ও প্রবীণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সমন্বয় করা হবে এবং বিএনপি জোটের শরিক দলগুলোর প্রতিনিধিরাও মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন।
প্রথা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। এছাড়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি জোট ২১২টি আসন, জামায়াতে ইসলামী জোট ৭৭টি আসন এবং স্বতন্ত্রসহ অন্যান্য প্রার্থীরা ৮টি আসনে জয় লাভ করেছে। দুটি আসনের ফলাফল স্থগিত রয়েছে এবং শেরপুর-৩ আসনে প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নির্বাচন হয়নি। একই দিনে অনুষ্ঠিত জুলাই সনদ সংক্রান্ত গণভোটে বিপুল সংখ্যাগরে “হ্যাঁ” ভোট পেয়েছে, যার consequence সংবিধান সংশোধন পরিষদের সদস্যরা আজ শপথ নেবেন।
শপথ অনুষ্ঠান সুন্দরভাবে সম্পন্ন করার জন্য সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সকালে এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানে অতিথি থাকবেন না, তবে বিকেলের মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে হাজারেরও বেশি দেশি-বিদেশি অতিথি অংশ নেবেন। তাদের মধ্যে থাকবেন দক্ষিণ এশিয়া ও বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান, স্পিকার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও অন্যান্য প্রতিনিধিরা। সকাল ১০টায় নব নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং বিকেল ৪টায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ সদস্যদের শপথ জাতীয় সংসদ ভবনে এবং মন্ত্রিসভার শপথ বঙ্গভবনের দরবার হলে হওয়ার ঐতিহ্য থাকলেও এবার মন্ত্রিসভার শপথ নেওয়া হবে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অস্থায়ী মঞ্চ, অতিথি গ্যালারি, ভিভিআইপি জোন ও গণমাধ্যম কর্নার তৈরির কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। সংসদ ভবনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করে নতুন সাজে প্রস্তুত করা হয়েছে। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জানিয়েছেন, এমপি ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকার পরিচালিত হয়েছে।
শপথ অনুষ্ঠানের কারণে সংসদ ভবন এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানটি লাইভ দেখানোর জন্য সংসদ ভবনের বাইরে বড় স্ক্রিন স্থাপন করা হয়েছে। সকাল ১০টায় সংসদের শপথ কক্ষে একসাথে ১০০ জন এমপি শপথ নেবেন এবং তা তিন দফায় সম্পন্ন হবে। শপথ শেষে সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন এবং পরবর্তী সংসদীয় কার্যক্রম শুরু হবে। পরে বিএনপি সংসদীয় দল তারেক রহমানকে সংসদের নেতা নির্বাচিত করবে এবং জামায়াতে ইসলামী জোটের দল ডা. শফিকুর রহমানকে বিরোধী দলীয় নেতা নির্বাচিত করবে।
বিকেল ৪টায় প্রধানমন্ত্রী ও নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্যরা শপথ নেবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংবিধান অনুযায়ী মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বঙ্গভবনের বাইরে, সংসদ ভবনের খোলা জায়গায় মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শপথের পরই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি করবে।
গতকাল নবনিযুক্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়, যেখানে শপথ অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভা হবে নবীন ও প্রবীণের সমন্বয়ে এবং দলের অন্দরের আন্দোলন সংগ্রামে অবদান রাখা নেতাদেরও এতে রাখা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঢাকায় শপথ অনুষ্ঠানের কারণে নির্দিষ্ট রাস্তা এবং এলাকা দিয়ে যানবাহনের চলাচলে বিশেষ সীমাবদ্ধতা থাকবে এবং ডিএমপি বিকল্প পথ ও ডাইভারশন নিয়ে পরিকল্পনা করেছে। নতুন সরকারের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় ৩৭টি সরকারি আবাসিক বাড়ি প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী কোন বাড়িতে থাকবেন তা এখনও চূড়ান্ত হয়নি; প্রধান উপদেষ্টার বসবাসরত ‘যমুনা’ বাড়িটিকে আপাতত প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবেও বিবেচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী নিজেই তার বাসস্থানের সিদ্ধান্ত নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেয়ে আজ শনিবার বিএনপি নতুন সরকার গঠন করতে যাচ্ছে; তারেক রহমান ইতোমধ্যে দেশে ফিরেছে এবং নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পথে আছেন।
ইনকিলাব মঞ্চের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় কিছু গণমাধ্যমের বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, দেশের গণমাধ্যমের কাছ থেকে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে শফিকুল আলম বলেন, গত ১৮ মাস গণমাধ্যম অভূতপূর্ব স্বাধীনতা ভোগ করেছে। তারপরও বারবার মৌলিক সাংবাদিকতায় যাচাই-বাছাইয়ে ব্যর্থতার উদাহরণ দেখা যাচ্ছে।
প্রেস সচিব জানান, শহীদ শরিফ ওসমান হাদির হত্যার বিচারের দাবিতে হওয়া কর্মসূচির সময় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা ও হাদির দীর্ঘদিনের সহচর আবদুল্লাহ আল জাবের পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হন। এসময় আরও বহু সমর্থক ও কর্মী আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
শফিকুল আলমের ভাষ্য, জাবেরকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট দেওয়া হয়, যেখানে দাবি করা হয় তিনি ‘গুলিবিদ্ধ’ হয়েছেন। প্রেস সচিব বলেন, ‘গুলিবিদ্ধ’ শব্দটি গভীর অর্থবোধক- সাধারণভাবে এটি সরাসরি গুলিতে আহত হওয়ার ধারণা দেয়। ওই পোস্টটি দ্রুত ভাইরাল হয়ে পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে তোলে।
প্রেস সচিব অভিযোগ করেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে টেলিভিশন চ্যানেল ও সংবাদপত্রসহ বড় বড় গণমাধ্যম ওই ফেসবুক পোস্টকেই সত্য ধরে নিয়ে ফটোকার্ড ও শিরোনামে জাবের গুলিবিদ্ধ হওয়ার খবর প্রচার করে। এতে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, সরকার তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) স্পষ্ট জানায়, ঘটনাস্থলে কোনো গুলি ছোড়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের নির্দেশনায় পুলিশ এখন আর প্রাণঘাতী অস্ত্র বহন করে না। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকও নিশ্চিত করেন, জাবেরসহ কোনো আন্দোলনকারী গুলিবিদ্ধ হননি।
সংবাদ সংগ্রহ একটি গুরুদায়িত্ব উল্লেখ করে শফিকুল আলম বলেন, একটি ভুল সংবাদও সহিংসতা উসকে দিতে পারে, দাঙ্গা সৃষ্টি করতে পারে এবং জনজীবনে অরাজকতা ডেকে আনতে পারে। তার অভিযোগ, আগের দিনের সংঘর্ষের ঘটনায় অনেক সংবাদমাধ্যম মারাত্মকভাবে ব্যর্থ হয়েছে। তারা শুধু ক্লিকবেইটের ফাঁদে পড়েনি, সেটিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত অন্তর্বর্তী সরকার, ডিএমপি ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বক্তব্য পরিস্থিতি শান্ত করতে সহায়তা করে।
সাংবাদিকদের দায়িত্ববোধের প্রসঙ্গে শফিকুল আলম বলেন, সরকার, রাজনীতিক ও প্রভাবশালীদের দায়িত্বশীলতার কথা বলতে সাংবাদিকরা প্রায়ই সোচ্চার হন। কিন্তু নিজেদের ক্ষেত্রে আয়নায় তাকানোর সময় এলে অনেকেই চোখ ফিরিয়ে নেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেছেন।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর প্রধানগণ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা, ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
মতবিনিময় সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় জোরদার এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
তিন বাহিনী প্রধান তাঁদের বক্তব্যে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণ বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েনকৃত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।
গাজীপুর জেলা পরিদর্শনকালে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিএনপি যখন ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে এবং আন্দোলন চালিয়ে গেছে, তখন যারা একবারের জন্যও সংস্কারের কথা বলেনি বা এ নিয়ে ভাবেনি, তারাই আজ বড় বড় সংস্কারের কথা বলছে। অথচ সংস্কারের জনক, ধারক ও বাহক বিএনপিকে নিয়ে তথাকথিত কিছু নব্য সংস্কারবাদী বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর।
তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে—জনগণের ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে ভোটাধিকারের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।
মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
মাহদী আমিন আরও বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ২০১৬ সালে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয় বিএনপির ভিশন-২০৩০। এরপর ২০২২ সালে ঘোষণা করা হয় ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব এবং ২০২৩ সালে আরও বিস্তৃত আকারে উপস্থাপন করা হয় ৩১ দফা। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার প্রস্তাব বিএনপিই সর্বপ্রথম ২০১৬ সালে জাতির সামনে তোলে। একইভাবে একজন ব্যক্তি যেন দীর্ঘদিন একই পদে ক্ষমতায় থাকতে না পারেন—এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবও বিএনপিই প্রথম উত্থাপন করে। এছাড়া ২০১৪ সালেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করতে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই একাধিকবার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন।
মাহদী আমিন জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল (৪ জানুয়ারি) নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে বরিশাল ও ফরিদপুর সফর করবেন। সকাল ১১টায় তিনি আকাশপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টায় বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন। এরপর দুপুর ১টায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসবেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, গত এক সপ্তাহেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে এবং একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিএনপির ক্রমবর্ধমান গণজোয়ার ও জনসমর্থনের মুখে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে অপতথ্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নির্বাচনি কাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক বিএনসিসি ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাদের নির্বাচনি দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে নির্বাচনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকেই ৩৪ হাজার ৪৪২ জন পর্যবেক্ষক থাকায় বিএনপি উদ্বিগ্ন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কিছু সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে এদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হতে পারে।
এ প্রেক্ষিতে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপির দাবিগুলো হলো—
পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ তালিকা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে রাজনৈতিক ও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া,
যেসব সংস্থার নির্বাচনি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা কম তাদের পর্যবেক্ষক সংখ্যা সীমিত করা,
এবং কোনো কেন্দ্রে একসঙ্গে দুইজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বিগত বছরগুলোতে প্রায় ২৮ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এই অর্থ অবশ্যই দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। এ ক্ষেত্রে কোনো আত্মীয়তা, দলীয় পরিচয় বা প্রভাবশালীদের চাপ বিবেচনায় নেওয়া হবে না। শুধু পাচারকৃত অর্থ নয়, অর্থ পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদেরও দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের আওতায় আনা হবে। দেশের টাকা লুট করে বিদেশে গিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করতে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, এবারের নির্বাচন কোনো সাধারণ নির্বাচন নয়; এটি দেশ গঠনের নির্বাচন। জনগণের প্রবল চাপেই দেশে পরিবর্তনের ঢেউ সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন ও আন্দোলনের মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তাদের অবস্থান স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের আমির ও সদর-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত এমপি প্রার্থী মাওলানা কামরুল আহসান এমরুলের সভাপতিত্বে এবং মহানগর সেক্রেটারি অধ্যাপক শহীদুল্লাহ কায়সারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এবং মুক্তাগাছা-৫ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ময়মনসিংহ সহকারী অঞ্চল পরিচালক মাওলানা মঞ্জরুল ইসলাম ভূঁইয়া এবং ময়মনসিংহ জেলা আমির আব্দুল করিম।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে। এ সময় ব্যাংকিং কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংক বিশেষ ছুটি ঘোষণা করে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষ্যে দেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করায় ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি (বুধবার ও বৃহস্পতিবার) দেশের সব তফসিলি ব্যাংক বন্ধ থাকবে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট সময়ে যানবাহন চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে এ নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে।
যেসব ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা শিথিল থাকবে—
১. আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এবং অনুমোদনপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকরা।
২. জরুরি সেবায় নিয়োজিত যানবাহন, ওষুধ ও চিকিৎসা সামগ্রী বহনকারী যান, পাশাপাশি সংবাদপত্র পরিবহনকারী সব ধরনের যানবাহন।
৩. আত্মীয়স্বজনকে আনতে বা পৌঁছে দিতে বিমানবন্দরে যাতায়াতকারী যানবাহন (টিকিট বা উপযুক্ত প্রমাণ দেখাতে হবে) এবং দূরপাল্লার যাত্রীবাহী যান ও সেসব যাত্রীর স্থানীয় পর্যায়ে যাতায়াতে ব্যবহৃত যানবাহন।
৪. প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য একটি এবং তার নির্বাচনী এজেন্টের জন্য একটি করে ছোট যানবাহন (জিপ, কার, মাইক্রোবাস ইত্যাদি), রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন ও গাড়িতে স্টিকার প্রদর্শনের শর্তে।
৫. সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক বা জরুরি কাজে ব্যবহৃত যানবাহন ও মোটরসাইকেল—নির্বাচন কমিশন বা রিটার্নিং অফিসারের অনুমোদন সাপেক্ষে।
৬. নির্বাচন কমিশনের অনুমোদন অনুযায়ী নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারী বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জন্য মোটরসাইকেল।
৭. টেলিযোগাযোগ সেবাকে জরুরি সেবা হিসেবে বিবেচনা করে বিটিআরসি এবং বিটিআরসি অনুমোদিত প্রতিষ্ঠানের যানবাহন।
৮. জাতীয় মহাসড়ক, বন্দর, আন্তঃজেলা ও মহানগরের প্রবেশ ও বহির্গমন সড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা শিথিলের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে।
এছাড়া, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে উল্লিখিত যানবাহনের বাইরে অন্য যানবাহনের ক্ষেত্রেও নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপ বা শিথিল করার ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারদের প্রদান করা হয়েছে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আজ ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ইং রোজ শনিবার
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে মানিকগঞ্জ-৩ (১৭০) আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী আফরোজা খানম রিতা’র প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ কর্মসূচী উপলক্ষে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক সদস্য রফিক উদ্দিন ভুইয়া হাবু’র নেতৃত্বে কয়েক হাজার নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ কে নিয়ে সিদ্দিক নগর এলাকা থেকে শুরু করে শহর এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এসময় রফিক উদ্দিন ভুইয়া সাধারণ জনগণের কাছে লিফলেট বিতরণ করে এবং ধানের শীষের জন্য ভোট দেওয়ার জন্য বিএনপির বিভিন্ন উদ্যোগ এর কথা উল্লেখ করেন। উক্ত মিছিলে জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উচ্ছ্বসিত ভাবে বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে ধানের শীষের জন্য ভোট চান।
উক্ত মিছিল শেষে নেতাকর্মীদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জ জেলা সদর উপজেলার বেতিলা মিতরা ইউনিয়ন কৃষকদলের কমিটি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। তথ্যসুত্রে জানা যায় সদর উপজেলার কৃষকদলের সভাপতি মো: আরিফ মোল্লা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মতিয়ার সাক্ষরিত কমিটি অনুমোদন করা কমিটি হয়। এ নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক সমালোচনা তৈরী হয়। বেতিলা মিতরা ইউনিয়নের বিভিন্ন সংগঠনের ত্যাগী নেতারা এই কমিটি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আওয়ামীলীগ সমর্থিত লোকজন দিয়ে কমিটি দেওয়া এবং বিএনপির নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচার করেছে এমন লোকজন দিয়ে কমিটি দেওয়া কে ত্যাগীদের সাথে প্রহসন বলে মনে করে। এবং এই কমিটি বাতিল করে ত্যাগী কর্মীদের দিয়ে কমিটির দাবি জানানো হয়।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, অ্যাডভোকেট এ এফ এম নূরতাজ আলম বাহার
মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর স্বাধীনতা, সংবিধান এবং গণতন্ত্র বিরোধী শক্তির বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতার প্রতীক ধানের শীষের জয়ের জন্য বিভেদ নয় বরং ঐক্য প্রয়োজন।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারী) রাতে মানিকগঞ্জ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বিএনপি এবং এর সহযোগী সংগঠনগুলি আয়োজিত এক উঠান সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন। মানিকগঞ্জ-৩ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আফরোজা খানম রিতার সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। পৌরসভার প্রথম চেয়ারম্যান প্রয়াত বেলায়েত হোসেন খানের বাসভবনে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
অ্যাডভোকেট নূরতাজ আলম বাহার তার বক্তব্যে বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রতিযোগিতা নয়; বরং এটি গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম। তিনি দাবি করেন যে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিরোধী শক্তিগুলি আবারও সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সাধারণ নাগরিকদের সজাগ ও সংগঠিত থাকতে হবে।
তিনি আরও বলেন যে, বিএনপি দীর্ঘদিন ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার আন্দোলনে নিয়োজিত। আসন্ন নির্বাচন সেই আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়। তিনি দলীয় নেতা, কর্মী, সমর্থক এবং সাধারণ ভোটারদের ধানের শীষ প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
মোহাম্মদ মামুন খানের সভাপতিত্বে এবং জাসাস নেতা জিয়াউল হক শাওনের পরিচালনায় উঠান বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ছাত্রদলের জেলা শাখার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মাসুদুল কামরুল হক মাসুদ,
বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রফিক উদ্দিন ভূঁইয়া হাবু,
আসাদুজ্জামান খান দোলন, রিয়াজ মাহমুদ হারেজ, মানিকগঞ্জ চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক শিশির দাস, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কালীপদ ঘোষ এবং জেলা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সদস্য সচিব গৌরাঙ্গ সরকার।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পৌর কৃষক দলের সভাপতি ওলিয়ার খান, সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক সুজন, সাবেক পৌর কাউন্সিলর সাঈদ খান গিয়াদা, জেলা ডিলারস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন খান শামীম, মোহাম্মদ হাবিবুল হোসেন খান তারিফ, মোহাম্মদ তোবারক হোসেন খান রিয়াদ, মো. মোবারক হোসেন, মোহাম্মদ আবিস খান সহ বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের অন্যান্য নেতা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং বাসিন্দারা। বক্তারা বলেন, বিরাজমান রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং জনসাধারণের আস্থার সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন অপরিহার্য। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে মানিকগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর জয় দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে আরও জোরদার করবে।
মানিকগঞ্জ জেলার কালিয়াকৈর এলাকার আরশেদ আলীর সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ হয়ে পরেছে। আওয়ামী লীগের আমলে ভুমি দখল মাটি বালু এবং হিন্দু পরিবারের জমি চেক জালিয়াতি সহ অসংখ্য অভিযোগ পাওয়া যায়। এবং একাধিক মামলা চলমান রয়েছে। টাকার বিনিময়ে জামিন এবং কিছু মানুষের যোগসাজশে আওয়ামী লীগ থেকে ভোল পাল্টে এলাকা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। এবং বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।
বরুন্ডী এলাকা এবং কৈতরা সহ বিভিন্ন জায়গায় এখনও অবৈধ ভাবে ভেকু দিয়ে মাটি কাটা চালিয়ে যাচ্ছে। একাধিক ভুক্তভোগী অভিযোগ করে জানান মামলা করে আরও বিপদে পরেছে তারা এবং অনেক ভুক্তভোগী এখনও তাদের জমি উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়েছে। তারা জানান অনতিবিলম্বে তার সুষ্ঠু বিচার এবং তাদের দখলকৃত জায়গা ফেরত পাওয়ার জন্য দাবি জানায়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, মানিকগঞ্জ-৩ আসনে নির্বাচনী উত্তাপ ততই বাড়ছে। এই আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) মনোনীত প্রার্থী, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খানম রিতার পক্ষে ব্যাপক জনসমর্থন তৈরি হয়েছে। স্থানীয় ভোটার ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, উন্নয়নের অঙ্গীকার এবং পারিবারিক ইমেজের কারণে এবার বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পথে রয়েছেন তিনি।
তৃণমূলমুখী প্রচারণা ও জনস্রোত
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মানিকগঞ্জ সদর ও সাটুরিয়ার প্রতিটি ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে বিরামহীন গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আফরোজা খানম রিতা। পথসভা ও উঠান বৈঠকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নারী ভোটারদের মধ্যে তাকে নিয়ে বাড়তি আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সভায় তিনি বলেন, “মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার মূল লক্ষ্য। উন্নয়নের মাধ্যমে আমরা এই জনপদের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে চাই।”
বিজয়ের কারিগর যে ফ্যাক্টরগুলো
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা আফরোজা খানম রিতার সুবিধাজনক অবস্থানের পেছনে কয়েকটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন:
পারিবারিক ঐতিহ্য: শিল্পপতি ও বিশিষ্ট রাজনীতিক হারুনার রশিদ খান মুন্নুর কন্যা হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে।
মানবিক ইমেজ: মুন্নু গ্রুপের মাধ্যমে জনহিতকর ও মানবিক কর্মকাণ্ডে দীর্ঘদিনের সংশ্লিষ্টতা তাঁকে সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীকে পরিণত করেছে।
তৃণমূল বিএনপি’র ঐক্য: দীর্ঘ সময় পর নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বিএনপি নেতা-কর্মীরা সুসংগঠিতভাবে মাঠে নেমেছেন, যা রিতার বিজয়কে সহজ করতে পারে।
সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা
সাটুরিয়া উপজেলার এক প্রবীণ ভোটার বলেন, “আমরা এমন একজনকে প্রতিনিধি হিসেবে চাই যিনি সব সময় আমাদের সুখে-দুখে পাশে থাকবেন। রিতা আপা সেই ভরসার জায়গা।” এছাড়া শিক্ষিত তরুণ ভোটাররা মনে করছেন, কর্মসংস্থান ও এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে তাঁর ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
যদিও এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পক্ষ থেকেও প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তবে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জনমতের পাল্লা এখন পর্যন্ত আফরোজা খানম রিতার দিকেই ভারী বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে সংসদে মানিকগঞ্জ-৩ আসনের প্রতিনিধিত্ব করবেন—এমনটাই প্রত্যাশা তাঁর সমর্থকদের।
মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলায় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে রাতের আঁধারে কৃষিজমির মাটি কেটে নেওয়ার অভিযোগে অবৈধ মাটি ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে একজনকে চার লাখ টাকা জরিমানা করার পাশাপাশি একাধিক স্থানে মাটি কাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাত ৮টা থেকে গভীর রাত আড়াইটা পর্যন্ত উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবেল উদ্দিনের নেতৃত্বে বলধারা, বায়রা ও সায়েস্তা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে চারটি স্থানে চলমান অবৈধ মাটি কাটার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে মাটি কাটায় ব্যবহৃত তিনটি ভেকু মেশিন অকার্যকর করে দেয় প্রশাসন। বায়রা ইউনিয়নে ডালিম নামের এক ব্যক্তিকে বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী দায়ের করা মামলায় চার লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযানে পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা ভ্রাম্যমাণ আদালতকে সহযোগিতা করেন।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. হাবেল উদ্দিন বলেন, “কৃষিজমি ধ্বংস ও পরিবেশের ক্ষতি করে অবৈধভাবে মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে। জনস্বার্থে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
মানিকগঞ্জ জেলায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। ঠিক তখনই একটা মহল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সহ নানা মাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে দিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে কয়েক দফায় অভিযোগ করা হলেও তেমন কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। মানিকগঞ্জের ভুইফোর গুটিকয়েক হলুদ সাংবাদিক , সাংবাদিকতার নামে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতিমধ্যে কয়েকজন সাংবাদিকের নামে মানুষকে হয়রানি মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার প্রমান পাওয়া গেলেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো ভূমিকায় দেখা যায়নি। একটা ঘটনা কে ন্যারিটিভ সৃষ্টি করে বিভিন্ন ভুয়া তথ্য ও আজগুবি গল্প সাজিয়ে সম্মানিত সিটিজেন দের চরিত্র হননের চেষ্টা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় জড়িত কয়েকটা ফেসবুক পেজকে সনাক্ত করা হয়েছে তাঁর মধ্যে অন্যতম manikganj-1800 এবং মানিকগঞ্জের আওয়াজ নামের ফেইসবুক পেইজ থেকে প্রতিনিয়ত এসব ভুয়া তথ্য প্রচার করা হয়। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে একটি বড় দলের বহিষ্কৃত বিদ্রোহী প্রার্থীর অনুসারীরা বিএনপির প্রার্থীর ইমেজ ক্ষুণ্ন করার জন্য এবং তার জনপ্রিয়তা নষ্ট করার জন্য এই অপকৌশলের পথ বেছে নিয়েছে। যারফলে সাধারণ মানুষ ও অল্প শিক্ষিত মানুষকে বিভ্রান্তের মাঝে ফেলছে। জানাগেছে এরই মধ্যে সদর থানায় এ বিষয়ে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
আজ ২১জানুয়ারি ২০২৬ মানিকগঞ্জ রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এ প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়।
মানিকগঞ্জের তিনটি আসনের ১৯ প্রার্থী ও প্রতীক
মানিকগঞ্জ০১আসন
প্রার্থী আবু বকর (দাঁড়িপাল্লা)।
এস.এ জিন্নাহ কবির (ধানের শীষ)।
মোহাম্মদ ইলিয়াছ হুছাইন (ট্রাক)।
মোহাম্মদ শাহজাহান খান (কলম)।
মোঃ খোরশেদ আলম ইসলামী (হাতপাখা)।
মোঃ তোজাম্মেল হক তোজা স্বতন্ত্র (ঘোড়া)।
মানিকগঞ্জ ০২ আসন।
এস.এম.আব্দুল মান্নান (লাঙ্গল)।
মঈনুল ইসলাম খান শান্ত (ধানের শীষ)।
মোহাম্মদ আলী (হাতপাখা)।
মোঃ সালাহ উদ্দিন (দেওয়াল ঘড়ি)।
মানিকগঞ্জ ০৩আসন।
আফরোজা খানম রিতা (ধানের শীষ)।
আবুল বাশার বাদশা (লাঙ্গল)।
মফিজুল ইসলাম খান কামাল স্বতন্ত্র (সূর্যমুখী ফুল)।
মুহাম্মদ সাঈদ নূর (রিক্সা)।
মোয়াজ্জেম হোসেন খান মজলিশ (বাইসাইকেল)।
মোঃ আতাউর রহমান আতা স্বতন্ত্র (ফুটবল)।
মোঃ শাহজাহান আলী সাজু [মটরগাড়ি (কার)]
রফিকুল ইসলাম খান স্বতন্ত্র (মোটরসাইকেল)
সামসুদ্দিন (হাতপাখা)