শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুরে তিন বাহিনী প্রধানের মতবিনিময় বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন আমরা টাকা পাচারকারীদের ঘুম হারাম করে দেব আওয়ামী লীগ–বিএনপি দ্বন্দ্বের বাইরে নতুন সমীকরণ: ক্ষমতার রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর উত্থান ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকবে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক নির্বাচন ঘিরে মোটরসাইকেল ও যানচলাচলে বিধি-নিষেধ মানিকগঞ্জে রফিক উদ্দিন ভুইয়া হাবু’র নেতৃত্বে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ মানিকগঞ্জে বেতিলা মিতরা ইউনিয়ন কৃষকদল কমিটি নিয়ে বিতর্ক। মানিকগঞ্জে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ঐক্যের আহ্বান নূরতাজ আলম বাহারের

বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন

ডেক্স রিপোর্ট
Update : মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র এবং দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, ফ্যাসিবাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে বিএনপি যখন ধারাবাহিকভাবে রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে কথা বলেছে এবং আন্দোলন চালিয়ে গেছে, তখন যারা একবারের জন্যও সংস্কারের কথা বলেনি বা এ নিয়ে ভাবেনি, তারাই আজ বড় বড় সংস্কারের কথা বলছে। অথচ সংস্কারের জনক, ধারক ও বাহক বিএনপিকে নিয়ে তথাকথিত কিছু নব্য সংস্কারবাদী বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত বিস্ময়কর।

তিনি বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে—জনগণের ক্ষমতায়ন, বিশেষ করে ভোটাধিকারের মাধ্যমেই একটি গণতান্ত্রিক, জবাবদিহিমূলক ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহদী আমিন আরও বলেন, বিএনপি শুরু থেকেই রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে সুস্পষ্ট অবস্থান নিয়ে এগিয়ে এসেছে। ২০১৬ সালে জাতির সামনে উপস্থাপন করা হয় বিএনপির ভিশন-২০৩০। এরপর ২০২২ সালে ঘোষণা করা হয় ২৭ দফা রাষ্ট্র সংস্কার প্রস্তাব এবং ২০২৩ সালে আরও বিস্তৃত আকারে উপস্থাপন করা হয় ৩১ দফা। দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থার প্রস্তাব বিএনপিই সর্বপ্রথম ২০১৬ সালে জাতির সামনে তোলে। একইভাবে একজন ব্যক্তি যেন দীর্ঘদিন একই পদে ক্ষমতায় থাকতে না পারেন—এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সীমিত করার প্রস্তাবও বিএনপিই প্রথম উত্থাপন করে। এছাড়া ২০১৪ সালেই বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা জোরদার করতে ৫ শতাংশ কোটা সংরক্ষণের প্রস্তাব দেন।

তিনি বলেন, এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই বিএনপি আগামী জাতীয় নির্বাচনে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রশ্নে গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছে, যা দলের শীর্ষ নেতৃত্ব ইতোমধ্যেই একাধিকবার স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন।

বরিশাল ও ফরিদপুরে তারেক রহমানের নির্বাচনি সফর

মাহদী আমিন জানান, বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামীকাল (৪ জানুয়ারি) নির্বাচনি সফরের অংশ হিসেবে বরিশাল ও ফরিদপুর সফর করবেন। সকাল ১১টায় তিনি আকাশপথে ঢাকা থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। দুপুর ১২টায় বরিশালের বেলস পার্ক মাঠে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় তিনি বক্তব্য রাখবেন। এরপর দুপুর ১টায় বরিশাল থেকে ফরিদপুরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করে দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে ফরিদপুরের রাজেন্দ্র কলেজ মাঠে আরেকটি নির্বাচনি জনসভায় অংশ নেবেন। সমাবেশ শেষে তিনি ঢাকায় ফিরে আসবেন।

তারেক রহমানকে ঘিরে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ

সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন বলেন, গত এক সপ্তাহেই বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে লক্ষ্য করে অন্তত ২৯টি ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার সুস্পষ্ট প্রমাণ বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা ফ্যাসিবাদী আমলে তৈরি মিথ্যা বয়ান পুনরায় ছড়ানোর দায়িত্ব নিয়েছে এবং একই ভাষা ও স্লোগান ব্যবহার করে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। বিএনপির ক্রমবর্ধমান গণজোয়ার ও জনসমর্থনের মুখে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বলেই সুস্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা বাদ দিয়ে অপতথ্য ও ব্যক্তিগত আক্রমণের পথ বেছে নিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নির্বাচনি কাজে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েনে আপত্তি

নির্বাচনি কাজে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) এর ক্যাডেটদের মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া অনেক বিএনসিসি ক্যাডেট কোনো না কোনো রাজনৈতিক দল বা মতাদর্শের সঙ্গে যুক্ত। ফলে তাদের নির্বাচনি দায়িত্বে সম্পৃক্ত করা হলে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ বিষয়ে বিএনপি ইতোমধ্যেই নির্বাচন কমিশনের কাছে লিখিতভাবে বিএনসিসি ক্যাডেট মোতায়েন না করার অনুরোধ জানিয়েছে।

পর্যবেক্ষক নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ

মাহদী আমিন বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, ৮১টি স্থানীয় সংস্থার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষককে নির্বাচনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ১৬টি সংস্থা থেকেই ৩৪ হাজার ৪৪২ জন পর্যবেক্ষক থাকায় বিএনপি উদ্বিগ্ন। আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো—কিছু সংস্থার নেতৃত্বে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সদস্য রয়েছেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দিন অসৎ উদ্দেশ্যে এদের একটি অংশকে ব্যবহার করা হতে পারে।

এ প্রেক্ষিতে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে বিএনপির দাবিগুলো হলো—
পর্যবেক্ষকদের পূর্ণ তালিকা সরকারি সংস্থার মাধ্যমে যাচাই করে রাজনৈতিক ও প্রার্থী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বাদ দেওয়া,
যেসব সংস্থার নির্বাচনি পর্যবেক্ষণের অভিজ্ঞতা কম তাদের পর্যবেক্ষক সংখ্যা সীমিত করা,
এবং কোনো কেন্দ্রে একসঙ্গে দুইজনের বেশি স্থানীয় পর্যবেক্ষক প্রবেশ করতে না দেওয়ার জন্য সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করা।


More News Of This Category

ফেজবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর