শ্রীপুরে জমি বিরোধে বাড়িতে হামলা: নারীসহ আহত ২, স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, শ্রীপুর (গাজীপুর):
গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় জমি সংক্রান্ত পূর্ব শত্রুতার জেরে এক বসতবাড়িতে হামলা, মারধর এবং লুটের ঘটনা ঘটেছে। হামলায় একই পরিবারের নারীসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২০ জুন (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের জয়নাতলী গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
এই ঘটনায় ভুক্তভোগী মোঃ মান্নান (৫১) বাদী হয়ে ওইদিনই ৬ জনের নাম উল্লেখ করে শ্রীপুর মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযুক্তরা হলেন— একই এলাকার মোছাঃ আজিরন (৪০), সাহাবুদ্দিন (৬০), মোছাঃ কদবানু (৪৩), মার্জিয়া খাতুন (১৯), মোছাঃ ময়জান (৫৫) এবং হোসেন আলী (৫০)। তারা সবাই জয়নাতলী গ্রামের বাসিন্দা।
লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা ও মারধর
থানায় দেওয়া অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, বিবাদীদের সাথে বাদী মোঃ মান্নানের দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ ও শত্রুতা চলে আসছিল। এর জের ধরে গত ২০ জুন দুপুর আনুমানিক ২:৩০ ঘটিকায় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বেআইনিভাবে মোঃ মান্নানের বসতবাড়িতে প্রবেশ করে।
সেখানে তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং একপর্যায়ে বাদীর স্ত্রী মাজেদা আক্তার (৪৫) ও ছেলে আবু নাঈমকে (২৬) এলোপাতাড়ি মারধর করে। লাঠির আঘাতে তাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর নীলাফুলা জখম হয়।
স্বর্ণের চেইন ও নগদ টাকা লুট
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ১নং বিবাদী মাজেদা আক্তারের গলা থেকে আনুমানিক ২ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। এ সময় গৃহকর্তা মোঃ মান্নান বাধা দিতে গেলে তাকেও মারধরের চেষ্টা করা হয় এবং ৩নং বিবাদী তার শার্টের পকেট থেকে নগদ ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা ছিনিয়ে নেয়।
আহতদের ডাকচিৎকারে আশেপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ভুক্তভোগী পরিবারটিকে ভবিষ্যতে খুন-জখম করার প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
আইনি ব্যবস্থা
ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করে এবং ২০ জুন বিকেলে শ্রীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে শ্রীপুর মডেল থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযোগটি খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।










