জামায়াতের সাথে জোটে গড়তে অনড় এনসিপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই স্পষ্ট হচ্ছে রাজনৈতিক জোট ও আসনভিত্তিক সমীকরণ। রাজনীতির প্রায় সব সমীকরণই স্পষ্ট হতে পারে আজ রোববার। বহুল আলোচিত জামায়াত-এনসিপির আসন সমঝোতা কিংবা জোটেরও আত্মপ্রকাশ হতে পারে আজ। দল এবং দলের বাইরে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও এই সমঝোতায় অনড় রয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব। এটিকে চূড়ান্ত রেখেই আসন এবং জোটের সার্বিক বিষয়ে নিজেদের দরকষাকষি চালিয়ে যাচ্ছে উভয় দলই।
এনসিপি সূত্র বলছে, সংস্কার, দলের বৃহত্তর স্বার্থ ও নির্বাচনী কৌশলের অংশ হিসেবেই মূলত এই জোট বা আসন সমঝোতা হচ্ছে। এখান থেকে সরে আসার আর কোনো সুযোগ নেই। দলের বেশিরভাগ নেতা এতে সম্মতি জানিয়েছেন। তবে জোট বা আসন সমঝোতার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন সদস্য। গতকাল গুরুত্বপূর্ণ এই নীতিগত বিষয়ে গভীর উদ্বেগ জানিয়ে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চিঠি দিয়েছেন তারা। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির মোট সদস্য ২১৬ জন। এর মধ্যে জামায়াতের সঙ্গে এনসিপির জোট নিয়ে পক্ষে মত দিয়েছেন ১৮৪ জন কেন্দ্রীয় নেতা। কেন্দ্রীয় আরেকটি অংশ সমঝোতার পক্ষে থাকতেই দলের আহ্বায়ককে চিঠি দিয়েছে। এ ছাড়া এনসিপির অঙ্গসংগঠন জাতীয় যুব শক্তি, শ্রমিক শক্তি, ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্র শক্তিসহ সবাইকে নাহিদ ইসলাম ও আখতার হোসেনের পক্ষে অবস্থান নিতে দেখা গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই আস্থার কথা লিখেছেনও তারা।
এনসিপির শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮ দলীয় জোটের সঙ্গে আমার বাংলাদেশ পার্টিসহ (এবি পার্টি) আরও কয়েকটি দল যুক্ত হচ্ছে। এনসিপি এই বৃহত্তর সংস্কার জোটের পক্ষ নিয়েছে। এই সমঝোতায় এনসিপি অন্তত ৫০ আসন চেয়েছে। শেষ পর্যন্ত ৪০ আসনে এনসিপির প্রার্থী চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তারা। এই জোটে এনসিপি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পাবে, সেটাই প্রত্যাশা তাদের। দলটি প্রথম ধাপে ১২৫ আসনে প্রার্থী দিয়েছে। তবে সমঝোতার পর বাকি আসনগুলোতে আর মনোনয়ন না নিয়ে জোটের পক্ষেই কাজ করবেন তারা।
দলের এক নির্বাহী সদস্য বলেন, ‘আজ (গতকাল) রাতে সম্ভাব্য জোটের গুরুত্বপূর্ণ সভা ছিল। সেখানে এনসিপি অন্তত ৪০ আসন এবং জোটের মুখপাত্র হিসেবে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে চাওয়া হয়েছে। এখন পর্যন্ত এভাবেই আগাচ্ছে। সব চূড়ান্ত হলে কাল (আজ) জোটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।’
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির ৩০ জন আপত্তি জানিয়েছেন। এর মধ্য থেকে দুজন তাদের আপত্তি তুলে নিয়েছেন। বাকিরাও এই সমঝোতার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এনসিপির ১০ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে ৯ জনই পক্ষে থাকার অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। এ ছাড়া ছাত্র, যুব ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা নাহিদ ইসলাম এবং আখতার হোসেনের ওপর ভরসা রেখেছেন। কেউ কেউ শুরুতে আপত্তি জানালেও বৃহত্তর স্বার্থে তারা এক হয়েছেন।
এদিকে, এনসিপির জোট কিংবা আসন সমঝোতার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে পদত্যাগ করেছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা। আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৯ আসনে এনসিপি তাকে প্রার্থী মনোনীত করেছিল। তবে গতকাল তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, তিনি কোনো দলের হয়ে নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এর আগে চট্টগ্রাম-১৬ আসনের এনসিপির প্রার্থী মীর আরশাদুল হকও পদত্যাগ করে নির্বাচন না করার ঘোষণা দেন। এনসিপি সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিক ঘোষণার আগে আপত্তি জানানো ৩০ জনের মধ্যে আরও কয়েকজন পদত্যাগ করার সম্ভাবনা রয়েছে। তাদের মধ্যে নারীনেত্রীও রয়েছেন।










