শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
গণমাধ্যমের কাছে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করে সরকার: প্রেস সচিব ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুরে তিন বাহিনী প্রধানের মতবিনিময় বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন আমরা টাকা পাচারকারীদের ঘুম হারাম করে দেব আওয়ামী লীগ–বিএনপি দ্বন্দ্বের বাইরে নতুন সমীকরণ: ক্ষমতার রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর উত্থান ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকবে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক নির্বাচন ঘিরে মোটরসাইকেল ও যানচলাচলে বিধি-নিষেধ মানিকগঞ্জে রফিক উদ্দিন ভুইয়া হাবু’র নেতৃত্বে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ মানিকগঞ্জে বেতিলা মিতরা ইউনিয়ন কৃষকদল কমিটি নিয়ে বিতর্ক। মানিকগঞ্জে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ঐক্যের আহ্বান নূরতাজ আলম বাহারের

গাজীপুরের নির্বাচনের মাঠে সক্রিয় অপরাধীরা

স্টাফ রিপোর্টার
Update : শনিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২৫

ভৌগোলিক অবস্থানের দিক থেকে শিল্পনগরী টঙ্গী গাজীপুর ও রাজধানী ঢাকার মাঝামাঝি অবস্থিত। নতুনভাবে গঠিত গাজীপুর-৬ (টঙ্গী–গাছা–পুবাইল) আসন আদালতের রায়ে বাতিল হওয়ায় টঙ্গী আবারও আগের গাজীপুর-২ (সদর–টঙ্গী) আসনের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ফলে সদর ও টঙ্গী মিলিয়ে প্রায় আট লক্ষাধিক ভোটারের একটি বড় নির্বাচনী এলাকা তৈরি হয়েছে। এই বাস্তবতায় অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত টঙ্গীর প্রায় দুই লাখ ভোটার এবং ১৯টি বস্তির পাঁচ হাজারের বেশি চিহ্নিত অপরাধীর প্রভাব নির্বাচনী রাজনীতিতে দৃশ্যমান হয়ে উঠছে। রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ ও মিছিলে তাদের দাপট আগের চেয়ে বেড়েছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, টঙ্গী শিল্পাঞ্চলে মোট ১৯টি বস্তি রয়েছে, যেগুলো দীর্ঘদিন ধরেই মাদক, ছিনতাই, চুরি ও ডাকাতির আঁতুড়ঘর হিসেবে পরিচিত। এসব বস্তির একটি বড় অংশের আয়ের প্রধান উৎস মাদক ব্যবসা, ছিনতাই এবং অস্ত্র বাণিজ্য। রাজধানী ঢাকা ও গাজীপুর অঞ্চলের অন্যতম বড় পাইকারি মাদকের হাট হিসেবেও টঙ্গী পরিচিত। কক্সবাজার থেকে সরাসরি মাদকের চালান আসে টঙ্গীতে, আর টঙ্গীর মাদক ব্যবসায়ীরা নিয়মিত বিমানে কক্সবাজার যাতায়াত করেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

টঙ্গীর মাদক বস্তি হিসেবে পরিচিত ১৯টি বস্তির নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়ায় অবস্থান করছেন। শতাধিক পাইকারি মাদক কারবারি রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। সূত্র জানায়, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেও যারা এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিল, তারাই এখনো সক্রিয় রয়েছে—শুধু বদলেছে পৃষ্ঠপোষকতার ঠিকানা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) এক জরিপ অনুযায়ী, দেশে ১৪ হাজার বস্তিতে প্রায় ২২ লাখ ভাসমান মানুষ বসবাস করে। তবে এতে টঙ্গীর ১৯টি বস্তিতে বসবাসরত প্রায় তিন লাখ মানুষের তথ্য উল্লেখ নেই। স্থানীয়দের দাবি, এই ভাসমান জনগোষ্ঠীর মধ্যে লক্ষাধিক মানুষ চুরি, ছিনতাই, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, খুন, ধর্ষণ এবং রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের সঙ্গে নানাভাবে জড়িয়ে পড়েছে। বস্তিগুলোর নেতৃত্ব দিতে গিয়ে গড়ে উঠেছে পাঁচ হাজারেরও বেশি ক্যাডার। তাদের হাতে রয়েছে ছুরি, চাপাতি, চেইন, কোবা এমনকি আগ্নেয়াস্ত্রও।

সরেজমিনে দেখা গেছে, টঙ্গী বাজার মাজার বস্তি, টঙ্গী ব্যাংকের মাঠ, কেরানীরটেক, এরশাদনগর (বাস্তুহারা), বনমালা রেলগেট, মিলগেট নামাবাজার, মরকুন, পাগাড় ঝিনু মার্কেট, মধুমিতা রেললাইন, আরিচপুর শেরেবাংলা রোড, মধুমিতা তিনতলা মসজিদ মোড়, বউবাজার রেললাইন ও টঙ্গী নদীবন্দর এলাকায় মাদক কেনাবেচা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি আউচপাড়া, দত্তপাড়া, গাজীপুরা সাতাইশ রোড, হিমারদীঘি মেঘনা রোড ও চেরাগআলী এলাকাতেও দিন-রাত ইয়াবা, ফেনসিডিল, প্যাথেড্রিন ও গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রি হচ্ছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস হওয়ায় এসব বস্তিতে টাকার লোভ দেখিয়ে সহজেই অপরাধে জড়ানো যায়। অর্থের প্রয়োজনে নিজেরাও অনেকে অপরাধে জড়াচ্ছে। এসব অপরাধের মধ্যে রয়েছে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, চাঁদাবাজি ও ধর্ষণ। পাশাপাশি প্রভাবশালীদের স্বার্থে এলাকাভিত্তিক আধিপত্য বিস্তার, জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে শক্তি প্রদর্শনের কাজেও তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।

টঙ্গী থানার একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, বস্তিগুলো অত্যন্ত অপরাধপ্রবণ হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে সেখানে যেকোনো সময় অভিযান চালানো সম্ভব হয় না। অভিযানে পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এরপরও গত দেড় বছরে প্রায় এক হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে অপরাধের মাত্রা কমছে না।

গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত ডিআইজি) জাহিদ হোসাইন ভুঁইয়া বলেন, “অপরাধ দমনে পুলিশ সব সময় কাজ করে যাচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে।


More News Of This Category

ফেজবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর