বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গাজীপুরে তিন বাহিনী প্রধানের মতবিনিময় বিএনপির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তি ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে: মাহদী আমিন আমরা টাকা পাচারকারীদের ঘুম হারাম করে দেব আওয়ামী লীগ–বিএনপি দ্বন্দ্বের বাইরে নতুন সমীকরণ: ক্ষমতার রাজনীতিতে ইসলামী দলগুলোর উত্থান ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি বন্ধ থাকবে বাংলাদেশের সকল ব্যাংক নির্বাচন ঘিরে মোটরসাইকেল ও যানচলাচলে বিধি-নিষেধ মানিকগঞ্জে রফিক উদ্দিন ভুইয়া হাবু’র নেতৃত্বে প্রচারণা ও লিফলেট বিতরণ মানিকগঞ্জে বেতিলা মিতরা ইউনিয়ন কৃষকদল কমিটি নিয়ে বিতর্ক। মানিকগঞ্জে ধানের শীষকে বিজয়ী করতে ঐক্যের আহ্বান নূরতাজ আলম বাহারের আওয়ামীলীগের ভূমিখেকো আরশেদ আলী ভোলপাল্টে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালাচ্ছে।

নিরাপত্তার সার্থে গানম্যান পেলেন যারা।

ডেক্স রিপোর্ট
Update : সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

বাংলাদেশের ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ক্রমেই অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি হচ্ছে। গত বছরের ৫ আগস্ট সংঘটিত ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের মৌলিক অধিকার প্রশ্নে যারা আপসহীন অবস্থান নিয়েছেন, তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে আশঙ্কা বাড়ছে। বিশেষ করে ভারতের একপক্ষীয় নীতি ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রাজপথে এবং কলমে যেসব কণ্ঠ সোচ্চার, তাদের নীরব করতে একটি সুপরিকল্পিত ‘নীলনকশা’ বাস্তবায়নের গুরুতর ইঙ্গিত পাচ্ছে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো।

সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের সংগঠক শরীফ ওসমান হাদির ওপর প্রকাশ্য দিবালোকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের গুলিবর্ষণের ঘটনায় সেই আশঙ্কা রাজপথ পেরিয়ে নীতিনির্ধারণী মহলেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে। নিরাপত্তা সংশ্লিষ্টদের ধারণা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে দিল্লির প্রভাবমুক্ত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির দাবি তোলা ব্যক্তিরাই একটি বিশেষ হিটলিস্টের আওতায় পড়েছেন।

এমন প্রেক্ষাপটে জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বিভিন্ন সমন্বয়ক, সংসদ-সদস্য প্রার্থী এবং রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের সম্মুখসারির কয়েকজন নেতাকে গানম্যান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তাদের ব্যক্তিগত অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদানের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই তালিকায় রয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সমন্বয়ক সারজিস আলম।

এছাড়া আরও কয়েকজন রাজনীতিক ও সংসদ-সদস্য প্রার্থী ব্যক্তিগত নিরাপত্তার স্বার্থে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স চেয়ে আবেদন করেছেন। জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (জেপি) প্রধান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ঢাকা মহানগর পুলিশের কাছে গানম্যান চেয়ে আবেদন করেছেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে অচিরেই কয়েকজন রাজনীতিককে গানম্যান ও অস্ত্রের লাইসেন্স প্রদান করা হবে। এই তালিকায় রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জুনায়েদ সাকি, ডেমরা-যাত্রাবাড়ী এলাকা থেকে বিএনপির মনোনীত সংসদ-সদস্য প্রার্থী তানভির আহমেদ রবিন, পাবনা-৩ আসনের বিএনপি প্রার্থী জাফির তুহিন, জাতীয় পার্টির (জেপি) চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এবং লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদসহ আরও অনেকে।

এদিকে ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার কারণে শহীদ ওসমান হাদির পরিবারের সদস্যদের জন্যও বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার এক বোনকে অস্ত্রের লাইসেন্স ও গানম্যান দেওয়া হবে এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তার আওতায় আনা হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের উচ্চপর্যায়ের একাধিক সূত্র এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, “জুলাই যোদ্ধা এবং সংসদ-সদস্য প্রার্থীদের মধ্যে যারা আমাদের কাছে নিরাপত্তার আবেদন করেছেন, তাদের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


More News Of This Category

ফেজবুকে আমরা

এক ক্লিকে বিভাগের খবর